উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নন্দীগ্রামের (Nandigram) মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে বাংলার রাজনীতিতে ‘জায়ান্ট কিলার’ বলা হয়। বুধবার সকালে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রামে পৌঁছে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠেন তিনি। এই জয় কেবল সাধারণ জয় নয়, বরং এটি নন্দীগ্রামের মাটিতে শুভেন্দুর জয়ের হ্যাটট্রিক। ২০১৬ এবং ২০২১ সালের পর ২০২৬ সালেও নিজের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখলেন তিনি। তবে এবারের লড়াই ছিল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি একই সঙ্গে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম—উভয় কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়ে বিধানসভায় পা রাখছেন। পরপর দু’বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে শুভেন্দু অধিকারী নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন। মঙ্গলবার ভবানীপুরে জয়ের স্বাদ নেওয়ার পর আজ নন্দীগ্রামে পৌঁছাতেই তাঁকে ঘিরে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে।
নন্দীগ্রামের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শুভেন্দু। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তিনি ভোটার এবং কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “যারা আমাকে জিতিয়েছেন, তাঁদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। গত পাঁচ বছর যারা জেল-জুলুম, মিথ্যা মামলা এবং মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের আমি চিরকাল মনে রাখব।” শুভেন্দু আরও যোগ করেন যে, নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষ ও মা-বোনেরাই তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর মতে, নারীদের সম্মান রক্ষা এবং তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এই ‘আসল পরিবর্তন’ আনতে সাহায্য করেছে। শহিদ পরিবারগুলোর লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রলোভন ও অত্যাচারকে তুচ্ছ করে তাঁরাই পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করেছেন।


বিজয় উদযাপনের পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার কঠোর বার্তাও দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি সাফ জানান, জয়ের পর কোনওরকম প্রতিহিংসার রাজনীতিতে জড়ানো চলবে না। বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “কুকুর মানুষকে কামড়ায়, কিন্তু মানুষ কখনও কুকুরকে কামড়ায় না। ওরা অনেক অত্যাচার করেছে, কিন্তু আমরা হাতে আইন নেব না।” পরিবর্তে তিনি আইনি পথে হাঁটার আশ্বাস দিয়ে জানান যে, নতুন বিজেপি সরকার ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী প্রতিটি দুর্নীতির মামলা খতিয়ে দেখবে। আগের সরকারের আমলের প্রতিটি মামলা আইন অনুযায়ী ফের খুলে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। নন্দীগ্রামের কর্মসূচি শেষ করে আজই কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে তাঁর। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ‘ডাবল জয়’ শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্য রাজনীতিতে এক অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল।

