পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: তৃণমূলে যোগদান করা, রেলের চাকরি থেকে ইস্তফা পর্যন্ত অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। তবু ‘এলাম, দেখলাম, হেরে গেলাম’-এমন ট্যাগলাইন লিখতে হচ্ছে রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনকে (Swapna Barman)। রেলের চাকরি ছেড়ে ভোটে দাঁড়িয়ে পরাজিত হওয়ার পর স্বপ্নার এখন আম ছালা দুই-ই গেল বলে মনে করছেন রাজগঞ্জের মানুষ। অনেকে বলতে শুরু করছেন, খেলার জগতের মানুষ স্বপ্নার রাজনীতিতে আসাই কাল হল। স্বপ্না অবশ্য পরাজয় অনিবার্য জানার পরই গণনা শেষ হওয়ার আগেই জলপাইগুড়ি ডিসিআরসি থেকে মাথা নীচু করে বেরিয়ে গিয়েছেন। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, ‘এই পরাজয় মেনে নিচ্ছি। কিছুই বলার নেই।’
২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসে হেপ্টাথেলনে সোনাজয়ী অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বপ্না গত ছয় মাস ধরে খেলা ছেড়ে রাজনীতির দুনিয়ায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ২০২৬-এর এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির জন্য রাজ্য ও জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতাগুলিতে অংশ না নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে সখ্য বাড়িয়েছিলেন। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের চাকরিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন স্বপ্না। রেলকে না জানিয়ে তৃণমূলে যোগদান করায় রেল কর্তৃপক্ষ স্বপ্নাকে শোকজ করে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরই মধ্যে তৃণমূল স্বপ্নাকে রাজগঞ্জে প্রার্থী করায় তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। কিন্তু রেল সেই ইস্তফাপত্র স্বীকার করেনি। ফলে স্বপ্না হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে রেল স্বপ্নাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর শেষপর্যন্ত রেল ও নির্বাচন কমিশনের ছাড়পত্র পেয়ে প্রার্থীপদে মনোনয়নপত্র জমা দেন স্বপ্না।


রেলের চাকরি ছেড়ে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে স্বপ্না জলপাইগুড়ির জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কোটায় পুলিশে চাকরির আবেদন করেছিলেন। স্বপ্না ও তৃণমূলের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল, ভোটে জিতে তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে স্বপ্না হয় মন্ত্রিত্ব না হলে রাজ্য পুলিশে ডিএসপি পদে চাকরি পাবেন। কিন্তু রাজ্য থেকে তৃণমূল বিদায়ের পাশাপাশি নিজের পরাজয়ের পর স্বপ্না এখন আক্ষরিক অর্থেই অকূলপাথারে। একদিকে ক্রীড়াবিদ হিসাবে তাঁর কেরিয়ার সংকটে, অন্যদিকে রেলের চাকরি ছেড়ে রাজ্য পুলিশের চাকরিও অনিশ্চিত।
এদিন রাজগঞ্জের প্রমীলা বর্মন, দীপালি রায়ের মতো অনেকেই প্রকাশ্যে বলেছেন, স্বপ্না রাজবংশী সমাজের মুখ। বিজেপি যখন ওঁকে রেলের চাকরি দিয়েছিল তখন তৃণমূলে যাওয়া ওঁর উচিত হয়নি।

