পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: মন্ত্রিত্বের আশ্বাস না পেলে প্রার্থী হবেন না স্বপ্না (Swapna Barman)। কোন দল তাঁকে মন্ত্রী হওয়ার নিশ্চয়তা দেয়, তা নিয়ে এখন দরদাম করছেন এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী অ্যাথলিট। স্বপ্নার বক্তব্য, ‘আমি অনেক খেলেছি। এখন মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। মানুষের জন্য ভালো কাজ করার জন্য মন্ত্রী হওয়া খুব দরকার।’
তৃণমূলের পর স্বপ্নাকে প্রার্থী করার জন্য বাজিয়ে দেখছে বিজেপি। গত রবিবার স্বপ্নার কালিয়াগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত দুই দূত সহ কয়েকজন। সে খবর উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত হওয়ার পরদিনই গেরুয়া শিবিরের জেলা ও ব্লক স্তরের কয়েকজন নেতা স্বপ্নার বাড়িতে গিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Election) বিজেপির প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তৃণমূলের (TMC) পর বিজেপি (BJP) থেকেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, সেকথা স্বপ্না নিজেও স্বীকার করেছেন। তবে দরকষাকষিতে আপাতত স্বপ্না তৃণমূলের দিকেই কিছুটা ঝুঁকে। বিজেপি অবশ্য তঁার রেলের চাকরিকে তাস হিসাবে খেলতে চাইছে।


বিধানসভা বা লোকসভা ভোটে তৃণমূল জলপাইগুড়ি জেলায় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমজনতার পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য রাজবংশী মুখকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে বারবার। এই কৌশল বিগত দিনে অনেক আসনেই তাদের ভোট বৈতরণি পার করে দিয়েছে। স্বপ্নাকে প্রার্থী করার পিছনেও সেই অঙ্কই কাজ করছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
বিজেপি অবশ্য তৃণমূলের ঘুঁটি এত সহজে পাকা হতে দিতে রাজি নয়। তাই সোমবারই স্বপ্নার বাড়িতে যান বিজেপির চার নেতা। তবে, মন্ত্রিেত্বর ব্যাপারে স্বপ্নার দাবি তঁারা দলের ওপরমহলে জানাবেন বলে ফিরে এসেছেন।
বিজেপির শিলিগুড়ি জোনের ইনচার্জ বাপি গোস্বামী বলেছেন, ‘স্বপ্না বর্মন আমাদের ঘরের মেয়ে। আমি স্বপ্নাকে অনুরোধ করব, তৃণমূলের মতো চোরেদের দলে যেন না যান।’ তবে এবার উত্তরবঙ্গে রাজবংশী অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বিজেপির প্রার্থীতালিকায় চমকের পর চমক অপেক্ষা করছে বলে বাপি জানিয়েছেন।
এদিকে, স্বপ্নার কাছে তৃণমূল প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, এই খবর জানাজানির পরই ক্রীড়াজগৎ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে ফোন আসছে স্বপ্নার কাছে। স্বপ্নার পক্ষে ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে বলে অনেকে মতামত দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলির দড়ি টানাটানির মধ্যে স্বপ্না যেন নিজের মিন্ত্রত্বের দাবি থেকে সরে না আসেন সেই কথাও অনেকে বলেছেন।
দুই শিবির থেকেই প্রস্তাব আসায় স্বপ্না কিছুটা ফাঁপরে পড়েছেন। তিনি রেলে কর্মরত। তৃণমূলের প্রার্থী হলে পরিস্থিতির চাপে তঁাকে রেলের চাকরি হারাতে হতে পারে, এমনটাও আশঙ্কা করছেন স্বপ্না। এই অবস্থায় তিনি দরদাম করে কোন নৌকায় পা রাখেন, তা দেখার অপেক্ষায় জলপাইগুড়ি।

