উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আফগানিস্তানে মানবাধিকার ও সাম্যের কফিন শেষ পেরেকটি ঠুকল তালিবান প্রশাসন। সম্প্রতি সে দেশে জারি করা হয়েছে নতুন ‘ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড’ । ১১৯ অনুচ্ছেদের এই নথিটি কেবল আইন নয়, বরং আফগান সমাজকে বিভাজন এবং দাসপ্রথাকে বৈধতা দেওয়ার এক চরম দলিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। অভিযোগ উঠেছে, এই নতুন কোড অনুযায়ী নাগরিকরা আর আইনের চোখে সমান নন।
চার শ্রেণিতে বিভক্ত সমাজ: গরিবের জেল, ধনীর ‘উপদেশ’
তালিবান প্রধান হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা স্বাক্ষরিত এই নতুন আইনের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আফগান সমাজকে চারটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:
1. ধর্মীয় পন্ডিত (উলেমা): এরা সর্বোচ্চ স্তরের। কোনও অপরাধ করলে এদের কেবল ‘মৃদু উপদেশ’ দেওয়া হবে।
2. অভিজাত শ্রেণি (আশরাফ): এদের ক্ষেত্রে সমন জারি ও মৌখিক সতর্কবার্তা দেওয়া হবে।
3. মধ্যবিত্ত শ্রেণি: অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী এদের কারাদণ্ড হতে পারে।
4. নিম্নবিত্ত বা সাধারণ মানুষ: একই অপরাধের জন্য এদের কারাদণ্ডের পাশাপাশি কঠোর শারীরিক শাস্তি (বেত্রাঘাত বা অন্যান্য) ভোগ করতে হবে।
প্রাক্তন আফগান অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ফরিদ হামিদি একে “নাগরিকদের ওপর সরাসরি আক্রমণ এবং মানবিক মর্যাদার চরম অবমাননা” বলে অভিহিত করেছেন।
ফিরল দাসপ্রথা (Ghulami)!
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হল, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এই বিধিতে ‘গোলাম’ বা ‘দাস’ শব্দটিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আইনের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে ‘দাস’ এবং ‘মুক্ত মানুষ’-এর মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। এমনকি ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, কোনও দাসের শাস্তির বিধান কার্যকর করতে পারবেন খোদ তার ‘মালিক’ (বদর)। মানবাধিকার সংস্থা ‘রওয়াদারি’-র মতে, এটি আন্তর্জাতিক দাসপ্রথা বিরোধী আইনের চরম লঙ্ঘন।
নারী ও শিশুদের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক সহিংসতা
নতুন আইনে স্বামী এবং অভিভাবকদের অবাধ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ১০ বছরের শিশুকে প্রার্থনা না করার জন্য বাবা মারধর করতে পারবেন। আইনটি কেবল সেই শারীরিক হিংসাকে নিষিদ্ধ করেছে যা হাড় ভেঙে দেয় বা চামড়া ছিঁড়ে ফেলে। অর্থাৎ হালকা বা মাঝারি ধরনের প্রহার এখন আইনিভাবে বৈধ।

