উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। নির্বাচনের (Bangladesh Election 2026) পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনও ঘোষণা না হলেও এটি স্পষ্ট যে, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান (Tarique Rahman) বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ, ১৪ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের কথা থাকলেও আইনি ও নিয়মের জটিলতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার (১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন তারেক রহমান।
প্রতিবেশী দেশের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনে ভারত অত্যন্ত ইতিবাচক ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গতকাল, ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, মোদী ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেও বিএনপি প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন।
তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সূত্রের খবর, সময়মতো আমন্ত্রণপত্র পৌঁছালে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (External Minister S Jaishankar) এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা যেতে পারেন। উল্লেখ্য, এর আগে খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে যোগ দিতে তিনি ঢাকা গিয়েছিলেন এবং তারেক রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখাও করেছিলেন। এছাড়া দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।
বিগত কয়েক বছরে ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কিছুটা তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আবারও উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে বলে আশা করছে নয়াদিল্লি। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই লক্ষ্যেই ভারত দ্রুত সৌহার্দ্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

