অরূপ দত্ত ও সানি সরকার, কলকাতা ও শিলিগুড়ি: শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের উপস্থিতির পরও বৈঠক এড়িয়ে গেলেন মালিকপক্ষ। ফলে পাহাড়ের চা বাগানের (Tea Garden) বোনাস সংক্রান্ত ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ভেস্তে গেল।
বোনাস (Bonus) ইস্যুতে নতুন করে তপ্ত হচ্ছে পাহাড়, যার আঁচ পাওয়া গিয়েছে বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর পাহাড়ে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ায়। রাজ্য সরকারের সঙ্গে মালিকপক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বোনাস বৈঠক ভেস্তে গেলেও ন্যূনতম মজুরি, পিএফ, গ্র্যাচুইটির মতো চা বাগানের বিভিন্ন সমস্যার কথা শ্রমমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। পরবর্তী ত্রিপাক্ষিক বৈঠক যাতে শিলিগুড়িতে হয়, সেই দাবিও তোলেন তাঁরা। শ্রম দপ্তর সূত্রে খবর, পরবর্তী বৈঠকটি ১৬ নভেম্বর শিলিগুড়ির দাগাপুরের শ্রমিক ভবনে হবে।
মন্ত্রী মলয় ঘটক এদিনও বলেছেন, ‘বোনাস নিয়ে ওঁদের দাবির মীমাংসা করার জন্যই ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছি। নতুন করে আলোচনার রাস্তা খোলা আছে।’
সিটুর দার্জিলিং জেলা সভাপতি সমন পাঠক অবশ্য সুর চড়িয়ে রেখেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘বোনাস নিয়ে তরাই-ডুয়ার্সের শ্রমিক সংগঠন ও বাগান মালিকদের চুক্তি হলেও আমরা তা এখনও মেনে নিইনি। মালিকপক্ষ কিছুটা জোর করে শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকিয়ে দিয়ে চুক্তি করতে চাপ দিয়েছিল। কিন্তু পাহাড়ের সব শ্রমিক সংগঠনই এর বিরুদ্ধে এককাট্টা। রাজ্য সরকার যখন বিষয়টির মধ্যস্থতা করতে এসেছে তখন ২০ শতাংশ বোনাসের দাবি মালিকদের মানতে বাধ্য করার দায় রাজ্যের। বৈঠকে এদিনও আমরা তা মন্ত্রীকে স্পষ্ট করে দিয়েছি।’
পুজোর পর বোনাস বৈঠক। তাও ভেস্তে যাওয়ায় হতাশ পাহাড়ের চা শ্রমিকরা। মালিকদের অনুপস্থিতির জেরে বুধবারের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ভেস্তে যায়। আর ওই খবর মিলতেই ক্ষোভ ছড়ায় পাহাড়ে। বিভিন্ন জায়গায় মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ে। ২০ শতাংশ বোনাসের দাবিতে নতুন করে লাগাতার আন্দোলনের হুমকিও দেন অনেকে। সূত্রের খবর, উৎসব পরবর্তী পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে এদিনের বৈঠক এড়িয়ে যায় মালিকপক্ষ। ফলে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক আর হয়নি।
পুজোর আগে কয়েক দফা বৈঠকের পর ১৬ শতাংশ বোনাস দিতে সম্মত হয় মালিকপক্ষ। কিছু বাগান শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পাঠিয়েও দেয়। কিন্তু তা মেনে নেয়নি শ্রমিক সংগঠনগুলি, যার প্রেক্ষিতেই বুধবার কলকাতার নব মহাকরণের শ্রমিক ভবনে বৈঠক ডাকা হয়েছিল। মলয় ঘটক ছাড়াও প্রশাসনের তরফে উপস্থিত ছিলেন শ্রম কমিশনার। উপস্থিত ছিল সাতটি শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব।
হামরো হিল-তরাই-ডুয়ার্স চা শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি দিলীপ গুরুংয়ের অভিযোগ, ‘মালিকপক্ষের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বোঝাপড়া রয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের প্রশ্রয়েই মালিকরা বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন। এটা মেনে নেওয়া হবে না। ২০ শতাংশ বোনাস আদায় করে ছাড়ব।’

