শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: শুখা মরশুমের উৎপাদন কবে বন্ধ হবে, এখনও পর্যন্ত নির্দেশিকা দেয়নি টি বোর্ড (Tea Board)। গতবছর ৩০ নভেম্বর উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল উত্তরবঙ্গ এবং অসমে (Assam)। তবে ডুয়ার্সে (Dooars) এসে টি বোর্ডের সেই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। তাই এবার কোনও বিতর্ক চাইছে না কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের আওতাধীন টি বোর্ড। তাই তারা নীরব বলে মনে করছেন অনেকে। চা মহলের একাংশের ধারণা, কবে থেকে কাঁচা পাতা তোলা, উৎপাদন বন্ধ করতে হবে তা বাগানগুলির হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে। ৮ বছর আগে পর্যন্ত এই প্রথা ছিল।
এদিকে টি বোর্ডের নির্দেশিকার অপেক্ষায় না থেকে বেশকিছু বাগান শীতের পরিচর্যা শুরু করে দিয়েছে। টি বোর্ডের এক কর্তা বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনও সার্কুলার জারি হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।’
সম্প্রতি চা বণিকসভাগুলির সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করে টি বোর্ড। সেখানে বাগানগুলির প্রতিনিধিরা দাবি জানান, উৎপাদন বন্ধের কোনও নির্দেশিকা যেন চাপিয়ে দেওয়া না হয়। ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা অমিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘আশা করছি, টি বোর্ড যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভেবেচিন্তে নেবে।
বাগানগুলি তাদের নিজস্ব পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে কাজ করছে।’ ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশনের ডুয়ার্স শাখার সচিব শুভাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘গতবার আগেভাগে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষোভ ছড়ায়। এবার সব মহলের সঙ্গে আলোচনা করে টি বোর্ড যা করার করবে।’ জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলছেন, ‘যতদিন ভালোমানের কাঁচা পাতা আছে, উৎপাদন চালু থাকুক। তবে এই সুযোগে বটলিফ ফ্যাক্টরিগুলি যাতে নিম্নমানের পাতা দিয়ে উৎপাদনের রাস্তায় না হাঁটে, টি বোর্ডকে তা দেখতে হবে।’
বটলিফ ফ্যাক্টরিগুলির সংগঠন নর্থবেঙ্গল টি প্রোডিউসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সঞ্জয় ধানুটি বলেন, ‘গতবার গুণমান বজায় রাখতে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সিদ্ধান্ত সফল হয়নি। উলটে কেনিয়া, নেপালের চা ওই সময়ে আমদানি হওয়া শুরু হয়।’ অসমের চা শিল্পপতি ও টি বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রভাতকমল বেজবড়ুয়া বলেন, ‘পাতা থাকলে বাগান চালু রাখতে অসুবিধে নেই।’
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ও আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি প্রকাশ চিকবড়াইক বলেন, ‘হঠকারী সিদ্ধান্তে গতবছর বিপুল লোকসান হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী নিজে প্রতিবাদ করেছিলেন। এবার যাই হোক না কেন, আমাদেরই আন্দোলনের ফসল।’
আলিপুরদুয়ারের সাংসদ ও বিজেপির জেলা সভাপতি মনোজ টিগ্গা বলেন, ‘এবার দেরিতে বৃষ্টির কারণে বাগানগুলির পুজো ফ্লাশের পাতাও দেরি করে মিলছে। আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত উৎপাদন চালু থাকুক।

