সানি সরকার, শিলিগুড়ি: এভারেস্ট জয়ের পর তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ভারতে থাকতে চাই। চাই, দার্জিলিংয়ে থাকতে, যেখানে জানলা খুললে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়।’ নেপাল থেকেও কাঞ্জনজঙ্ঘা দেখা যায়। চোখের সামনে ভেসে ওঠে শ্বেতশুভ্র অন্নপূর্ণা, হাতছানি দেয় এভারেস্ট। তিনি এসেছিলেন দার্জিলিংয়ে। এখানেই স্পষ্ট, ভারত সম্পর্কে তাঁর আবেগ, ভালোবাসা। কিন্তু সেই তেনজিং নোরগে (Tenzing Norgay) এখনও ‘ভারতরত্ন’ বঞ্চিত। বুধবার এভারেস্ট বিজয় দিবস (Everest Day)। ফের দাবি উঠবে তেনজিংকে মরণোত্তর ভারতরত্ন দেওয়ার। গত ২৫ বছর ধরে এমন দাবি উঠছে এবং কেন্দ্র যথারীতি উড়িয়ে দিচ্ছে। আর কবে প্রাপ্য সম্মান পাবেন তেনজিং? এমন প্রশ্ন তুলছেন তেনজিং অনুসরণকারী এভারেস্ট জয়ী পর্বতারোহীরা।
রেকর্ড ভাঙার জন্যই তিনি জন্মেছেন। সবার রেকর্ড ভেঙে তাঁর সামনে এখন শুধুই নিজের নয়া রেকর্ড তৈরির হাতছানি। সম্প্রতি ৩০ বার এভারেস্টে পা রাখার অনন্য নজির গড়েছেন নেপালের কামিবিটা শেরপা। অথচ ৭১ বছর আগে যদি এডমন্ড হিলারি এবং তেনজিং নোরগে এভারেস্টে পা না রাখতেন তবে কামিবিটার জীবন হয়তো অন্য খাতে বইত।
এভারেস্টজয়ী দেবাশিস বিশ্বাস বলছিলেন, ‘তেনজিং নোরগে না থাকলে আমাদের জীবনটা কেমন হত কে জানে! ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছেন তিনি। শেরপা জাতিকে অন্য আলোয় নিয়ে এসেছেন। ভারতরত্ন পাওয়ার যোগ্য। তাঁকে যেদিন এই সম্মান দেওয়া হবে, জানি না সেদিন আমাদের সেলিব্রেটটা কেমন হবে!’ আরও একবার এভারেস্ট জয়ের প্ল্যান ছকছেন মলয় মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘বিস্ময়কর ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। অবশ্যই ভারতরত্নের যোগ্য তেনজিং নোরগে। অনেক আগেই তাঁকে এই সম্মান দেওয়া উচিত ছিল।’
বুধবার শিলিগুড়ির দার্জিলিং মোড়ে পুরনিগমের সঙ্গে এভারেস্ট দিবস উদযাপন করবে হিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশন (ন্যাফ)। মঙ্গলবার তার প্রস্তুতির ফাঁকে ন্যাফের কোঅর্ডিনেটর অনিমেষ বসুর বক্তব্যে হতাশার সুর। বললেন, ‘২৫ বছর ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ, প্রতিটি মহলে চিঠির পর চিঠি, দাবিপত্র পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনও সাড়া পেলাম না।’ শিলিগুড়ির পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে (এইচএমআই) দিনটি গর্বের সঙ্গে পালিত হবে। মূল উদ্যোক্তা তেনজিংয়ের ছেলে জামলিং তেনজিং শেরপা। তিনিও মরণোত্তর ভারতরত্নের দাবিতে সরব।
ভোট প্রচারে বাংলায় আসা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কানে কি পৌঁছাবে এই দাবি, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

