হরিশ্চন্দ্রপুর: রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল দশা ফের একবার প্রকাশ্যে এল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে। এক প্রসূতিকে আট ঘণ্টা বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা এবং ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের (BMOH) অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নং ব্লকের মশালদহ বাজার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র (BMOH Protest)।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষুব্ধ জনতা বিএমওএইচ-কে সামনে পেয়ে তাড়া করে বিক্ষোভ দেখায়। মশালদহ এলাকার বিস্তীর্ণ গ্রামীণ মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। অভিযোগ, শুক্রবার এক প্রসূতিকে হাসপাতালে আনা হলেও শুধুমাত্র একটি ‘ঘোষণাপত্র’ দিতে না পারার অজুহাতে তাঁর চিকিৎসা শুরু করা হয়নি (Pregnant Woman Neglect)। টানা আট ঘণ্টা যন্ত্রণায় ছটফট করলেও তাঁকে ফেলে রাখা হয় এবং শেষে রেফার করে দেওয়া হয়। রোগীদের দাবি, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক তাপস কুমার মুখোপাধ্যায় নিয়মিত হাসপাতালে আসেন না। তিনি সামসিতে নিজের প্রাইভেট চেম্বার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। হাসপাতালে মাত্র একজন চিকিৎসক থাকেন এবং ওষুধ বা ইনজেকশনের প্রয়োজনে নার্সদের ফোনে আধিকারিকের অনুমতির জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।
শনিবার সকালে বিএমওএইচ হাসপাতালে পৌঁছাতেই রোগীর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। বিক্ষোভের মুখে পড়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং কোনো সদুত্তর না দিয়ে কার্যত দৌড়ে পালিয়ে যান। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের বাইরে গজিয়ে ওঠা ওষুধ দোকান ও ক্লিনিকগুলিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই হাসপাতালে সিন্ডিকেট রাজ চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের প্রশ্রয়েই স্বাস্থ্য দপ্তরে এই অরাজকতা ও দালাল চক্র চলছে। যদিও তৃণমূল (TMC) নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, যদি কোনো চিকিৎসকের গাফিলতি থাকে তবে প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। বর্তমানে মালদার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

