নৃসিংহপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, কুমারগ্রাম: পেটে ব্যথা হওয়ায় এক কিশোরীকে বাড়ির লোকজন নিয়ে গিয়েছিলেন হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন নাবালিকা গর্ভবতী। নবম শ্রেণির পড়ুয়া সেই কিশোরী গত শুক্রবার কুমারগ্রাম প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক পুত্রসন্তান প্রসব করেছে। জেরার মুখে সেই নাবালিকা জানিয়েছে, নিজের দাদার সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক ছিল। এমন ঘটনায় কুমারগ্রামজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার কুমারগ্রাম থানায় গিয়ে সেই মেয়েটির বাবা নিজের নাবালক ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘পকসো আইনে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত নাবালককে গ্রেপ্তার করে জলপাইগুড়ি জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।’ পুলিশ সূত্রে খবর, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলে গোপন জবানবন্দির জন্য ওই নাবালিকাকে আদালতে তোলা হবে। সেইসঙ্গে ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সামনেও পেশ করা হবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, সেই পরিবারটি দরিদ্র। তাদের বাবা দিনমজুর। মা পরিচারিকার কাজ করেন। মেয়েটি পড়াশোনা করে ঠিকই তবে ছেলেটি পড়াশোনা ছেড়ে দিনমজুরির কাজ করে। সকাল সকাল বাবা-মা কাজে বেরিয়ে গেলে ছেলেমেয়ে বাড়িতে কী করছে, তার খোঁজ আর কেউ রাখত না। এদিকে, মেয়েটি প্রায় ৮ মাস গর্ভবতী থাকলেও বাড়ির লোকজন নাকি কিছুই বোঝেননি।
এধরনের ঘটনায় ‘বয়সের দোষ’-এর কথা বলছেন অনেকে। বারবিশা হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক পিয়ালি সরকারের কথায়, ‘এখনকার কিশোর-কিশোরীরা খুব এক্সপেরিমেন্টাল। অল্প বয়সেই তাদের হাতে স্মার্টফোন চলে আসছে। বই ছেড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তর খুঁজতে গিয়ে মুঠোফোনে যৌনতা সংক্রান্ত অনেক কিছু ভেসে আসছে। এতে ওদের মনে নানারকম কৌতূহল জন্মাচ্ছে। মোবাইলে উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিজেদের অজান্তে তারা বিপদ ডেকে আনছে।’
কোন প্রেক্ষিতে ও কীভাবে এধরনের অসামাজিক ঘটনা ঘটতে পারে তার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সচেতনতার অভাব, জেনারেশন গ্যাপ, বিদ্যালয় স্তরে যৌন শিক্ষা ও স্মার্টফোনের প্রভাবের মতো কথা উঠে আসছে। চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউশন (সিনি)-এর কুমারগ্রাম ব্লক কোঅর্ডিনেটর টুম্পা বণিক মানছেন, এমন ঘটনা রুখতে সচেতনতা জরুরি। তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা স্কুলগুলিতে বয়ঃসন্ধিকালীন নানা বিষয় নিয়ে সচেতনতামূলক শিবির করছি। আর সন্তান বিপথগামী হলেও নিজেদের অজ্ঞতার কারণে অভিভাবকরা সেসব টের পাচ্ছেন না।’
যৌনশিক্ষার উপর জোর দিয়েছেন কবি শীলা সরকারও। কুমারগ্রামের ঘটনার কথা শুনে তিনিও বলছেন, ‘অভিভাবক এবং সন্তানদের মধ্যে কারণবশত দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যে কারণে বাবা-মা নাবালক ছেলে ও মেয়ের খোঁজখবর রাখতে পারেননি। সম্ভবত জেনারেশন গ্যাপের কারণে এমনটা হয়েছে।’

