উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের (Matua Community) একাংশের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকত্বের অধিকার রক্ষায় সরাসরি দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) দ্বারস্থ হলেন মতুয়ারা। বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের (SantanuThakur) নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা।
মতুয়া প্রতিনিধিদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বেছে বেছে মতুয়াদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেওয়া অভিযোগপত্রে তাঁরা জানিয়েছেন, খসড়া তালিকায় নাম না থাকায় তাঁরা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন। চিঠিতে মতুয়াদের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সুরক্ষার দাবিও জানানো হয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে এই এসআইআর প্রক্রিয়াকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে বারবার দাবি করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে মতুয়ারা উদ্বেগে থাকলে বিজেপির তরফে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল। এমনকি শান্তনু ঠাকুরের পক্ষ থেকে ‘মতুয়া কার্ড’ বিলি করে সুরক্ষার বার্তা দেওয়া হয়। কিন্তু খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, বহু মতুয়া নাগরিকের নাম সেখানে নেই।
এই পরিস্থিতিতে শান্তনু ঠাকুরের একটি মন্তব্য বিতর্ক আরও উসকে দেয়। তিনি বলেছিলেন, ‘৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের নাম বাদ দিতে গিয়ে যদি আমাদের ১ লক্ষ লোকের নাম বাদ যায়, তবে তা আমাদের সহ্য করে নেওয়া উচিত।’ শান্তনু ঠাকুরের এই অবস্থানে ক্ষুব্ধ হন মতুয়াদের একাংশ। এর প্রতিবাদে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের অপর সংঘাধিপতি তথা তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর গাইঘাটার ঠাকুরবাড়িতে প্রতিবাদ সভার ডাক দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা (Amit Shah) কলকাতা সফরে এসে মতুয়াদের ভয় দূর করার চেষ্টা করলেও সংশয় পুরোপুরি কাটেনি। সেই কারণেই বুধবার শান্তনু ঠাকুরকে সঙ্গে নিয়েই রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হলেন মতুয়া প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই বিচ্যুতি সংশোধন করে প্রতিটি বৈধ মতুয়া নাগরিকের ভোটাধিকার ও সামাজিক পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।

