কোচবিহার: হাসপাতাল চত্বর থেকে পথকুকুরদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য কোচবিহার পুরসভার দ্বারস্থ হল এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২৭ নভেম্বর রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের এক নির্দেশিকার জেরে পুর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু হাসপাতাল চত্বর কুকুরমুক্ত কবে হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কেননা, কুকুর ধরে তাদের রাখার মতো কোনও পরিকাঠামো নেই পুরসভার।
কুকুরমুক্ত রাখতে হবে হাসপাতাল চত্বর, ৭ নভেম্বর এমনই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যার প্রেক্ষিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে প্রতিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। ২৭ নভেম্বর স্বাস্থ্য দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে বলেছেন, হাসপাতাল চত্বর ও ওয়ার্ডে যেন কুকুরের চলাচল বা কাউকে কামড় দেওয়ার মতো ঘটনা না ঘটে। হাসপাতালের ভেতরে কুকুর ঢুকতে না পারে, সেজন্য কড়া নজরদারির কথাও বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অ্যান্টি র্যাবিজ ভ্যাকসিন রাখা বাধ্যতামূলক বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে ওই নির্দেশিকায়। স্বাস্থ্য ভবনের এমন নির্দেশিকার জেরে পুরসভাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান হাসপাতাল সুপার ডাঃ সৌরদীপ রায়। তাঁর বক্তব্য, ‘নির্দেশ অনুসারে অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে নোডাল অফিসার করা হয়েছে। তাঁর নজরদারিতে থাকবে সম্পূর্ণ বিষয়টি। এছাড়াও হাসপাতাল চত্বরে বর্জ্য যাতে না জমে, সে ব্যাপারেও পুরসভাকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে।’ চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘কুকুর সরানোর কথা বলা হলেও, বাস্তবে এধরনের কোনও পরিকাঠামো নেই আমাদের। কুকুর ধরা, তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা এবং দেখভালের জন্য প্রচুর লোকের প্রয়োজন। পুরসভায় কর্মীসংকটের মধ্যে এসব কাজ আমাদের পক্ষে করা খুবই অসম্ভব ব্যাপার। তাছাড়া রাজ্য থেকে আমার কাছে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দেশ আসেনি। প্রয়োজনে আমি জেলা শাসকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।’
অর্থাৎ, হাসপাতাল চত্বর কুকুরমুক্ত করা যে অসম্ভব, তা স্পষ্ট। বৃহস্পতিবারও হাসপাতাল চত্বরে কুকুরের দলকে দেখা গিয়েছে। যদিও এমন ঘটনা নতুন নয়। এই হাসপাতালে সবসময়ই কুকুরের অবাধ বিচরণ। অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল চত্বরে ফেলে রাখা দেহাংশ মুখে নিয়েও কুকুরকে ছোটাছুটি করতে দেখা গিয়েছে। উত্তরবঙ্গ সংবাদে ওই খবর প্রকাশিত হয়েছে। এমন ঘটনায় অস্বস্তি ও আতঙ্কে থাকেন হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসা রোগী ও তাঁদের পরিজনরা।

