ধূপগুড়ি: ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বুধবার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো সিজারিয়ান (C-Section) পরিষেবা। আর এই পরিষেবার প্রথম দিনেই তিন প্রসূতি মা সুস্থ সন্তানের জন্ম দিলেন। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রথম নবজাতকের নাম রাখা হলো ‘উৎসব’।
এদিন আনুষ্ঠানিক সূচনার পর প্রথম অস্ত্রোপচার হয় পূর্ব মল্লিকপাড়ার বাসিন্দা ঊর্মিলা রায়ের। তাঁর কোল আলো করে আসে এক সুস্থ পুত্র সন্তান। হাসপাতালের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত আনন্দের হওয়ায় জলপাইগুড়ি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) ডা: অসীম হালদার নিজে ওই শিশুর নাম রাখেন ‘উৎসব’। এই বিশেষ নামকরণে উচ্ছ্বসিত শিশুর বাবা কৃষ্ণ রায় ও ঠাকুমা কল্পনা রায়। এর পরপরই দীপিকা অধিকারী ও খাদিজা বিবি নামে আরও দুই প্রসূতি সুস্থ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।
প্রথম দিনের এই অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়া সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল স্বাস্থ্য দপ্তর। ধূপগুড়ির অ্যানাস্থেসিস্ট ছুটিতে থাকায় জলপাইগুড়ি থেকে ডেপুটি সিএমওএইচ ৩ ডা: সুদীপ্ত মণ্ডল এবং মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডা: প্রদীপ কালসার আনা হয়েছিল। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ধূপগুড়ি হাসপাতালের (Dhupguri Hospital) স্ত্রী-রোগ ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও। ডা: অসীম হালদার জানান, “তিনজন মা এবং নবজাতকরাই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আপাতত সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনগুলিতে এই সিজার পরিষেবা মিলবে।”
ধূপগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে মহকুমা হাসপাতালে উন্নীত হওয়ার পর থেকেই উন্নত পরিষেবার দাবি ছিল স্থানীয়দের। এদিন সিএমওএইচ জানান, হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে এবং ধাপে ধাপে চিকিৎসক ও নার্সদের শূন্যপদ পূরণ করা হবে। বদলি হওয়া কিছু নার্স এখনও কাজে যোগ না দেওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সিজার পরিষেবা চালু হওয়ায় এখন থেকে ধূপগুড়ি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষকে আর জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়িতে ছুটতে হবে না, যা উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক বড় পদক্ষেপ।

