দিনহাটা: নয়ের দশকে দিনহাটা মহকুমায় শুরু হওয়া রেডক্রস সোসাইটির পরিচয় এখন পুরসভার গ্যারাজ। দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকা রেডক্রস সোসাইটিতে পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে চিকিৎসার যন্ত্রাংশ। অথচ রেডক্রস সোসাইটি পুনরায় খোলা নিয়ে নেই কোনও প্রশাসনিক উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধুঁকতে থাকার পর ২০১৯ সালে বন্ধ হয় এই রেডক্রস সোসাইটি। যার ফলে থমকে এই সংস্থার মহকুমাভিত্তিক কর্মসূচি। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
শহরে মূলত চিকিৎসাজনিত সাহায্য করার উদ্দেশ্যেই মহকুমা শাসকের দপ্তরের কাছেই রেডক্রস সোসাইটি তৈরি হয়েছিল। প্রতি বছরই সংগঠনের তরফে চোখ অপারেশন ক্যাম্প, বিশেষভাবে সক্ষমদের হুইলচেয়ার দেওয়া এবং রক্তদান শিবিরের মতো একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হত। সেইসঙ্গে মহকুমার বাসিন্দাদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবাও দেওয়া হত। এছাড়াও সোসাইটির তরফে বিনামূল্যে এক্স-রে পরিষেবাও দেওয়া হত। একসময় সোসাইটির অ্যাম্বুল্যান্স ও শববাহী গাড়ি থাকলেও এখন তা তুলে দেওয়া হয়েছে পুরসভার হাতে।
শহরের বাসিন্দা অমিত রায়ের কথায়, ‘দিনহাটা কোচবিহার জেলার একটি প্রান্তিক মহকুমা। এখানকার মানুষের জন্য সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও বিকল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই সংস্থা সাধারণ মানুষকে ভরসা জোগাত। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে সেটাও বন্ধ থাকায় আশাহত হওয়া ছাড়া উপায় নেই।’
যদিও সংস্থার কোষাধ্যক্ষ ও প্রাক্তন সম্পাদক দিলীপ দে অবশ্য মহকুমা প্রশাসনের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন। তাঁর কথায়, ‘মহকুমা প্রশাসনের তরফে কোনও আলোচনা বা পরিকল্পনার দেখা মেলেনি। বিশেষ করে পদাধিকারবলে মহকুমা শাসকের যে ভূমিকা নেওয়ার কথা ছিল সেভাবে কোনও মহকুমা শাসকই মৃতপ্রায় রেডক্রস সোসাইটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এগিয়ে আসেননি।’ যদিও এবিষয়ে স্থায়ী মহকুমা শাসক না থাকায় কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি এবং ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বিজয় গিরিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। স্থানীয় তন্ময় সরকার বলেন, ‘রেডক্রসের মতো এত বড় সংগঠন বন্ধ হয়ে আছে। অথচ প্রশাসনের কোনও উদ্যোগ নেই। এর ফলে জনমুখী কার্যকলাপ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এবিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।’

