Gazole | পুজোয় নেই কোনও মন্ত্রতন্ত্র, মনস্কামনা পূরণে পিরবাবার থানে ঘোড়া দান করেন ভক্তরা

শেষ আপডেট:

গৌতম দাস, গাজোল: মনোবাঞ্ছা পূরণ হলে ভক্তরা মাটির ঘোড়া দান করেন। এই পুজোয় কোনও মন্ত্রতন্ত্র নেই। শুধু হাঁটু গেড়ে বসে নিজের মনের ইচ্ছে জানাতে হয়। কথা হচ্ছে বুড়া পির সাহেবের পুজোর। এই পুজোকে কেন্দ্র করে গাজোল-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সোরাকান্দর এবং বাগদাপাড়া গ্রামের তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষ মেতে উঠেছেন। প্রতি বছর কার্তিক মাসের শেষ শুক্র ও শনিবার ধুমধাম করে এখানে বুড়া পির সাহেবের পুজো হয়। প্রসাদ হিসেবে এখানে কলার ছড়ি, বিভিন্ন ধরনের ফল, গুড় ও বাতাসা দেওয়া হয়। পির সাহেবের থানে অনেকে ধূপ ও সিঁদুর নিবেদন করেন।

সোরাকান্দর গ্রামের মধ্যে গাছপালা দিয়ে ঘেরা একটি জায়গায় লাল রঙের একটি বেদি রয়েছে। এটিকে পির সাহেবের থান বলে বিশ্বাস করেন গ্রামবাসী। তবে শুধু ওই দুই গ্রামের মানুষই নন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এই পির সাহেবের থানে এসে ভিড় জমান। যাঁদের প্রিয়জন অসুস্থ তাঁরা এখানে এসে পির সাহেবের কাছে আরোগ্য কামনা করেন। গ্রামবাসীর বিশ্বাস, পির সাহেব সকলের প্রার্থনা শোনেন। সেইজন্য দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসেন।

এই গ্রামের বাসিন্দা দীনেশ মণ্ডলের কথায়, ‘১০০ বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের গ্রামে বুড়া পির সাহেবের পুজো হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, পির সাহেব খুব জাগ্রত। যাঁরা ভক্তিভরে এবং একাগ্র চিত্তে পির সাহেবের কাছে কিছু চান, তাঁদের মনস্কামনা পিরবাবা পূরণ করেন।’

তিনি আরও জানান, মূলত যাঁদের মনস্কামনা পূরণ হয়, তাঁরা এখানে মাটির ঘোড়া দান করেন। এবছর হাজারখানেক মাটির ঘোড়া দান করা হয়েছে। পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এখানে আসেন। পুজো উপলক্ষ্যে এখানে খিচুড়ি বিতরণ করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মূলত লোকসংস্কৃতিকে এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

পির সাহেবের থানে পুজো উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কাজ গ্রামের মহিলারা করেন। ভোগের ডালা সাজানো, দান করা ঘোড়াগুলিকে সাজিয়ে রাখা সব তাঁরাই করেন। গ্রামের বাসিন্দা অলকা সরকার বলেন, ‘আমাদের গ্রামের এই পির সাহেব খুব জাগ্রত। প্রতিবছর জাঁকজমক সহকারে পির সাহেবের পুজো করা হয়। এই পুজোকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী মেতে ওঠেন।’

শনিবার পির সাহেবের থানে পুজো দিতে এসেছিলেন সম্বলপুরের বাসিন্দা তপন রবিদাস। তপন বলেন, ‘আমি খুব অসুস্থ হয়েছিলাম। পির সাহেবের কাছে মানত করেছিলাম। সুস্থ হওয়ার পর এখানে পুজো দিতে এসেছি। তাই আমার বিশ্বাস ভক্তিভরে পির সাহেবের কাছে কিছু চাইলে তা পূরণ হয়। তাই বিভিন্ন এলাকা থেকে আজও মানুষ পির সাহেবের কাছে ছুটে আসেন।’ শিলিগুড়ি, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, মেদিনীপুর সহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন।

Sandip Sarkar
Sandip Sarkarhttps://uttarbangasambad.com/
Sandip Sarkar Reporter based in Darjeeling district of West bengal. He Worked in Various media houses for the last 22 years, presently working in Uttarbanga Sambad as Sr Sub Editor.

Share post:

Popular

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

More like this
Related

Itahar | সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণা! ইটাহারে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা  

ইটাহার: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক...

Weather Update | উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির দাপট, ঝোড়ো হাওয়া বইবে দক্ষিণে! রইল রাজ্যের আবহাওয়ার খবর  

উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রোদ-বৃষ্টির খামখেয়ালিপনা চলছে বঙ্গজুড়ে। তবে...

Raiganj | মহিলাকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ! পুলিশি হেপাজতে রায়গঞ্জের তৃণমূল কাউন্সিলর

বিশ্বজিৎ সরকার,রায়গঞ্জ: গ্রেপ্তারির পর এবার তৃণমূলের (TMC) কাউন্সিলর বাপি...