বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫

Gazole | পুজোয় নেই কোনও মন্ত্রতন্ত্র, মনস্কামনা পূরণে পিরবাবার থানে ঘোড়া দান করেন ভক্তরা

শেষ আপডেট:

গৌতম দাস, গাজোল: মনোবাঞ্ছা পূরণ হলে ভক্তরা মাটির ঘোড়া দান করেন। এই পুজোয় কোনও মন্ত্রতন্ত্র নেই। শুধু হাঁটু গেড়ে বসে নিজের মনের ইচ্ছে জানাতে হয়। কথা হচ্ছে বুড়া পির সাহেবের পুজোর। এই পুজোকে কেন্দ্র করে গাজোল-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সোরাকান্দর এবং বাগদাপাড়া গ্রামের তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষ মেতে উঠেছেন। প্রতি বছর কার্তিক মাসের শেষ শুক্র ও শনিবার ধুমধাম করে এখানে বুড়া পির সাহেবের পুজো হয়। প্রসাদ হিসেবে এখানে কলার ছড়ি, বিভিন্ন ধরনের ফল, গুড় ও বাতাসা দেওয়া হয়। পির সাহেবের থানে অনেকে ধূপ ও সিঁদুর নিবেদন করেন।

সোরাকান্দর গ্রামের মধ্যে গাছপালা দিয়ে ঘেরা একটি জায়গায় লাল রঙের একটি বেদি রয়েছে। এটিকে পির সাহেবের থান বলে বিশ্বাস করেন গ্রামবাসী। তবে শুধু ওই দুই গ্রামের মানুষই নন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এই পির সাহেবের থানে এসে ভিড় জমান। যাঁদের প্রিয়জন অসুস্থ তাঁরা এখানে এসে পির সাহেবের কাছে আরোগ্য কামনা করেন। গ্রামবাসীর বিশ্বাস, পির সাহেব সকলের প্রার্থনা শোনেন। সেইজন্য দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসেন।

এই গ্রামের বাসিন্দা দীনেশ মণ্ডলের কথায়, ‘১০০ বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের গ্রামে বুড়া পির সাহেবের পুজো হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, পির সাহেব খুব জাগ্রত। যাঁরা ভক্তিভরে এবং একাগ্র চিত্তে পির সাহেবের কাছে কিছু চান, তাঁদের মনস্কামনা পিরবাবা পূরণ করেন।’

তিনি আরও জানান, মূলত যাঁদের মনস্কামনা পূরণ হয়, তাঁরা এখানে মাটির ঘোড়া দান করেন। এবছর হাজারখানেক মাটির ঘোড়া দান করা হয়েছে। পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এখানে আসেন। পুজো উপলক্ষ্যে এখানে খিচুড়ি বিতরণ করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মূলত লোকসংস্কৃতিকে এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

পির সাহেবের থানে পুজো উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কাজ গ্রামের মহিলারা করেন। ভোগের ডালা সাজানো, দান করা ঘোড়াগুলিকে সাজিয়ে রাখা সব তাঁরাই করেন। গ্রামের বাসিন্দা অলকা সরকার বলেন, ‘আমাদের গ্রামের এই পির সাহেব খুব জাগ্রত। প্রতিবছর জাঁকজমক সহকারে পির সাহেবের পুজো করা হয়। এই পুজোকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী মেতে ওঠেন।’

শনিবার পির সাহেবের থানে পুজো দিতে এসেছিলেন সম্বলপুরের বাসিন্দা তপন রবিদাস। তপন বলেন, ‘আমি খুব অসুস্থ হয়েছিলাম। পির সাহেবের কাছে মানত করেছিলাম। সুস্থ হওয়ার পর এখানে পুজো দিতে এসেছি। তাই আমার বিশ্বাস ভক্তিভরে পির সাহেবের কাছে কিছু চাইলে তা পূরণ হয়। তাই বিভিন্ন এলাকা থেকে আজও মানুষ পির সাহেবের কাছে ছুটে আসেন।’ শিলিগুড়ি, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, মেদিনীপুর সহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন।

Sandip Sarkar
Sandip Sarkarhttps://uttarbangasambad.com/
Sandip Sarkar Reporter based in Darjeeling district of West bengal. He Worked in Various media houses for the last 22 years, presently working in Uttarbanga Sambad as Sr Sub Editor.

Share post:

Popular

More like this
Related

Malda | ‘পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির’, বিস্ফোরক তৃণমূল বিধায়ক

সামসী: পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির।...

Falakata Municipality | বড়দিনে ‘বড়’ উপহার ফালাকাটার, সাড়ে ১০ কোটিতে ২১৩টি কাজ পুরসভার

ভাস্কর শর্মা, ফালাকাটা: ফালাকাটার নাগরিকদের বড়দিনের উপহার দিল পুরসভা।...

Deshbandhu Para Shris Ch. Primary School | পড়ুয়া মাত্র ১৭, ধুঁকছে শ্রীশ চন্দ্র প্রাথমিক স্কুল

ভাস্কর শর্মা, ফালাকাটা: প্রতিষ্ঠার পর কেটে গিয়েছে ৫৩ বছর।...

Tufanganj hospital | রোগীর পাশে কুকুর-বিড়াল, উদাসীনতার ছবি তুফানগঞ্জ হাসপাতালে

বাবাই দাস, তুফানগঞ্জ: রোগীর বেডের নীচে তিড়িংবিড়িং করে ঘুরে...