উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাতে খেয়েদেয়ে শোয়ার পর অনেকেই অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগেন (Gastric Problems)। তাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, ফলে ক্লান্তি থেকে যায়। তার ওপর এই সমস্যা মেটাতে গ্যাসের ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, যা মোটেও ভালো নয়। সেক্ষেত্রে ভালো কিছু অভ্যাস করলে উপকার পেতে পারেন।
ভরপেট খাবেন না


রাতে হালকা খাবার খান। কম তেলে রান্না করা, সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে রাতে। রাতে নেমন্তন্ন থাকলেও চেষ্টা করুন হালকা খাবার বেছে নিতে। ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেল–মশলা দেওয়া খাবার এড়িয়ে চলুন। রাতে পেটের খানিকটা অংশ খালি রেখে খাওয়ার অভ্যাস করাই ভালো।
শোয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে খান
খাওয়ার পরপরই শোবেন না। এতে অ্যাসিডিটির প্রবণতা বাড়ে। এমনভাবে খাওয়ার সময় নির্ধারণ করুন, যাতে শোয়ার আগে অন্তত দুই ঘণ্টা সময় থাকে। অর্থাৎ সব কাজ করে খাওয়াদাওয়ার পর্ব সারবেন, এমন ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
খাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট পর জল খান
খাওয়ার পরপরই জল খাবেন না। অন্তত ২০ মিনিট পর জল খাওয়ার অভ্যাস করুন। খাওয়ার আগে জল খেতে চাইলে তা খাওয়া শুরু করার অন্তত ২০ মিনিট আগে খেয়ে নিন। খাওয়ার মাঝখানে জল না খাওয়াই ভালো, খুব প্রয়োজন হলে খাওয়ার মাঝখানে সামান্য জল খাবেন।
খাওয়ার পর হাঁটুন
রাতে খাওয়ার পর হাঁটার অভ্যাস করুন। তাতে আপনার হজমপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। সার্বিকভাবে শরীর সুস্থ থাকবে। বাইরে, বাড়ির ছাদে, লন কিংবা বারান্দায় হাঁটতে পারেন। এরকম সুযোগ না থাকলে ঘরেই হাঁটুন। মাত্র ১০ মিনিটের এই হাঁটাহাঁটির অভ্যাসই হতে পারে সুস্থতার চর্চা।
জল ঠিকঠাক খেতে হবে
হজমপ্রক্রিয়া ঠিক রাখার জন্য সারা দিনে পর্যাপ্ত জল খাওয়া প্রয়োজন। সকাল, দুপুর কিংবা রাতের খাবার খাওয়ার ২০ মিনিট পর তো বটেই, এসব খাবারের মাঝের লম্বা বিরতিতেও সঠিকভাবে জল খেতে হবে। সারা দিনে এবং সারা রাতে সুবিধাজনক সময়ে অল্প করে জল খেতে পারেন।
টক দই বা মৌরি খান
খাওয়ার সময় কিংবা খাওয়া শেষে টক দই খেতে পারেন। কিংবা খাওয়ার পর সামান্য মৌরি চিবোতে পারেন। এই দুটি উপাদান হজমে সহায়ক। তবে দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগ থাকলে মৌরি খাওয়া যাবে না। কেউ কেউ অবশ্য খাওয়ার পর মিিষ্ট খান। তাতে হজমে খানিকটা সহায়তা হলেও মনে রাখতে হবে, রোজ মিিষ্ট খাওয়া সবার জন্য ভালো অভ্যাস নয়।
রাতে যোগব্যায়ামের চর্চা করুন
যোগব্যায়ামের এমন কিছু পদ্ধতি আছে, যা হজমে সহায়তা করে। একজন দক্ষ প্রশিক্ষকের সহায়তা নিয়ে নিয়ম মেনে রোজ রাতে এসব ব্যায়াম চর্চা করতে পারেন।
এ ধরনের অভ্যাসের পরও সমস্যা না মিটলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে থেকে দিনের পর দিন গ্যাসের ওষুধ খেয়ে বিপদ ডেকে আনবেন না।

