নাগরাকাটা: ডুয়ার্সের কলাবাড়ি চা বাগান ও সংলগ্ন এলাকা এখন চিতাবাঘের অবাধ বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় অতিষ্ঠ বাসিন্দাদের রক্ষায় বড়সড় সাফল্য পেল বন দপ্তর। রবিবার গভীর রাতে কলাবাড়ি লাগোয়া খুটাবাড়ি এলাকা থেকে ছাগলের টোপ দিয়ে ফের একটি পূর্ণবয়স্ক মর্দা চিতাবাঘকে খাঁচাবন্দি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত সাত দিনে এই একই বাগান এলাকা থেকে পরপর তিনটি চিতাবাঘ ধরা পড়ল (Leopard Trapped)।
এবারের চিতাবাঘটি ধরা পড়েছে খুটাবাড়ি গ্রাম থেকে। এই সেই এলাকা, যেখানে গত বছরের ২৭ আগস্ট নাবালক মহম্মদ করিমুল হককে বাড়ির উঠোন থেকে টুঁটি টিপে ধরে তুলে নিয়ে গিয়েছিল চিতাবাঘ। পরে বেগুন ঝোপ থেকে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। রবিবারের এই সাফল্যে এলাকায় কিছুটা স্বস্তির আবহাওয়া ফিরলেও আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। এর আগে গত ৫ ও ৯ জানুয়ারি কলাবাড়ির বাঁধ লাইন এলাকা থেকে আরও দু’টি চিতাবাঘ ধরা পড়েছিল।
কলাবাড়ি ও সংলগ্ন ১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় চিতাবাঘের দাপট কমাতে ৮টি খাঁচার একটি শক্তিশালী ‘চাক্রব্যূহ’ তৈরি করেছিল বন দপ্তর। বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণ শাখার রেঞ্জার হিমাদ্রী দেবনাথ জানিয়েছেন, “খাঁচা পাতার কৌশল কাজ করছে। ধরা পড়া পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এলাকায় এখনও আরও চিতাবাঘ থাকতে পারে বলে আমাদের অনুমান, তাই নজরদারি ও খাঁচা পাতার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”
গত বছরের জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত শুধুমাত্র এই বাগান থেকেই ৮টি চিতাবাঘ ধরা পড়েছে। আর যদি পার্শ্ববর্তী ১০ কিমি এলাকা ধরা হয়, তবে গত ৬ মাসে মোট ১৫টি চিতাবাঘ খাঁচাবন্দি হয়েছে। বন দপ্তরের এই তৎপরতার নেপথ্যে রয়েছে একের পর এক মর্মান্তিক মৃত্যু। ১৮ জুলাই ২০২৪-এ সাড়ে ৩ বছরের শিশু আয়ুষ নাগার্চিকে উঠোন থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে চিতাবাঘ। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর খেরকাটা গ্রামে প্রাণ হারায় নাবালক অস্মিত রায়। ১৯ অক্টোবর চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সুশীলা গোয়ালাকেও একইভাবে প্রাণ হারাতে হয়। এমনকি গত ১৭ ডিসেম্বর প্রতিকা কুজুর নামে এক শিশুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সে বরাতজোরে প্রাণে বাঁচে।
নাগরাকাটার এই বিস্তীর্ণ চা বাগান এলাকা এখন বন্যপ্রাণ ও মানুষের সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। একের পর এক চিতাবাঘ ধরা পড়লেও এখনও বাগানের ঝোপঝাড়ে ঠিক কতগুলি শিকারি লুকিয়ে আছে, সেই চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে চা শ্রমিকদের।

