পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: ট্র্যাপ ক্যামেরার অভাবে গরুমারা জাতীয় উদ্যান (Gorumara National Park) ও চাপড়ামারি অভয়ারণ্যে বাঘ শুমারি শুরুই করতে পারল না বন দপ্তর। সুন্দরবনে বাঘ শুমারি (Tiger Census) শেষ হলে সেখান থেকে ক্যামেরা আসার পর বাঘ শুমারি শুরু হবে। পাহাড়ি এলাকায় এখনও অত্যধিক ঠান্ডা থাকায় এপ্রিলের শেষ বা মে মাসের প্রথমে নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানে বাঘ শুমারি করবে বন দপ্তর (Forest Department)।
নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানের পাশাপাশি এবার সমতলের গরুমারা জাতীয় উদ্যান ও চাপড়ামারি অভয়ারণ্যেও বাঘ শুমারি যৌথভাবে করবে ন্যাশনাল টাইগার প্রোজেক্ট কনজারভেশন এবং ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া এবং রাজ্য বন দপ্তর। গরুমারা ও চাপড়ামারিতে চলতি মাসের ১৮ থেকে ২০ তারিখের মধ্যেই বাঘ শুমারি নির্ধারিত ছিল। তাছাড়া নেওড়াভ্যালিতে ফেব্রুয়ারি মাসে একটু ঠান্ডা কমলে বাঘ শুমারি শুরু করা হবে বলে প্রথমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ক্যামেরায় বাঘের ছবি, হেঁটে পলিগ্যান পদ্ধতি মেনে চোখে দেখা এবং গাছে বাঘের নখের আঁচড় ও বাঘের মলের নমুনা ও পায়ের ছাপ নিয়ে বাঘ শুমারি করা হবে। শুমারির জন্য বনকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল জানুয়ারির শুরুতেই। বাঘের বাসস্থান ও বাঘের খাদ্যশৃঙ্খলের পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হবে।
নেওড়াভ্যালিতে ২০১৭ সাল থেকে ট্র্যাপ ক্যামেরায় একাধিকবার বাঘের ছবি উঠলেও এমনকি বাঘের মলের নমুনা পরীক্ষার জন্য ডব্লিউএলআইআই-র কাছে পাঠানো হলেও ২০২২ সালে দেশের বাঘশুমারি রিপোর্টে নেওড়ায় একটিও বাঘের উল্লেখ ছিল না।
গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন বলেন, ‘নেওড়াভ্যালিতে এখন তাপমাত্রা মাইনাসের নীচে রয়েছে। তাছাড়া হিমালয়ান ব্ল্যাক ভালুকের উপদ্রব বিপজ্জনকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ঠান্ডার প্রকোপ কমলে নেওড়ার সাড়ে দশ হাজার ফুট উচ্চতায় ট্র্যাপ ক্যামেরা বসিয়ে এবং ট্রেকিং করে বাঘ শুমারি করা হবে। তবে নেওড়ায় এপ্রিলের শেষ বা মে মাসের প্রথম দিকে শুমারি করা হবে।’
বাঘ শুমারির জন্য নেওড়ার গহন পাহাড়ি জঙ্গলে ঠান্ডা পড়ার আগেই ৮০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সমতলের গরুমারা ও চাপড়ামারিতে ৬০টি ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। জলদাপাড়া থেকে আরও ৪৫টি ক্যামেরা আসার কথা থাকলেও তা আসেনি। তাই সুন্দরবন থেকে ৪৫টি ক্যামেরা আনা হচ্ছে। তাই সুন্দরবনের ক্যামেরা আসার পর গরুমারা ও চাপড়ামারিতে বাঘ শুমারি করা হবে বলে ডিএফও জানান। এদিকে, নেওড়ার জঙ্গলে ২০০ সমীক্ষক এবং গরুমারা ও চাপড়ামারিতে ২৫০ সমীক্ষককে বাঘ শুমারিতে যুক্ত করা হবে।
যেদিন থেকে বাঘ শুমারি শুরু হবে সেদিন থেকে সক্রিয়ভাবে ট্র্যাপ ক্যামেরাগুলিকে আগামী ৪৫ দিন পর্যন্ত চালু রাখা হবে। ট্র্যাপ ক্যামেরায় ওঠা বাঘের ছবি ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার গবেষণাগারে বিশ্লেষণ করে বাঘের সংখ্যা বের করা হবে।

