উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ মসজিদের শিলান্যাস ঘিরে নিরাপত্তার বেড়াজালে আঁটসাঁট বেলডাঙা। শনিবার বেলা ১২টায় বেলডাঙায় ২৫ বিঘা জমির উপর হবে ‘বাবরি মসজিদ’-এর শিলান্যাস। এই নামকরণ নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বেলডাঙায় নিরাপত্তা, প্রস্তুতি, ভিড়, সব মিলিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি শিলান্যাসে জড়ো হবেন প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে শনিবারের সূচি কতটা নির্বিঘ্নে শেষ হয়, সেদিকেই নজর রাজ্যজুড়ে।
শুক্রবার রাত থেকে বেলডাঙায় মসজিদের শিলান্যাস নিয়ে সাজো সাজো রব। এদিন রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মঞ্চ বাঁধার কাজ চলেছে সেখানে। এদিনই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। হুমায়ুন কবীরের উদ্যোগেই মসজিদের শিলান্যাস হচ্ছে। এই অনুষ্ঠান ঘিরে আজ সকাল থেকেই এলাকায় টানটান উত্তেজনা। মরাদিঘি মোড়ের বিশাল মাঠে চলছে জোর প্রস্তুতি, আর সেই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ মেনে নিরাপত্তায় নেমেছে পুলিশ–প্রশাসন। নজরদারিতে কুইক রেসপন্স টিম, র্যাফ, ভিলেজ পুলিশ থেকে মহিলা কনস্টেবল—সবাই। মাঠের চারপাশে টহল গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকদেরও।
হুমায়ুন কবীর জানান, ২৫ বিঘার জমিতে মসজিদের শিলান্যাসের সাক্ষী থাকবেন প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ। সব মিলিয়ে খরচ হবে প্রায় ৬০–৭০ লক্ষ টাকা। মঞ্চ তৈরিতে ব্যয় ১০ লক্ষ টাকা। রান্নার দায়িত্বে ৭টি কেটারিং সংস্থা, তৈরি হচ্ছে ৪০ হাজার ‘শাহি বিরিয়ানি’।
জানা গিয়েছে, মসজিদের শিলান্যাসের নিরাপত্তায় থাকছেন দু’জন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আধিকারিক, ৩০ জন ডিএসপি, ১০০ ইন্সপেক্টর, ২০০ সাব–ইন্সপেক্টর/এএসআই, কনস্টেবল, লেডি কনস্টেবল, সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ। এছাড়াও গোয়েন্দা বিভাগের ৩০ জন আধিকারিক। সবমিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকবে। শুক্রবার রাতে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা বেলডাঙায় গিয়ে পরিদর্শন করেছেন মঞ্চস্থল। হুমায়ুন বলেন, “পুলিশের সম্পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছি। লাখ তিনেক লোক তো হবেই।”
এদিন সকাল ৮টা থাকেই বেলডাঙায় ভিড় জমাতে শুরু করেছেন অতিথিরা। সকাল ১০টায় কোরান তেলাওয়াত। দুপুর ১২টায় মসজিদের শিলান্যাস। দুপুর ২টোয় শুরু হবে মধ্যাহ্নভোজন।

