স্বপনকুমার চক্রবর্তী, বামনগোলা: প্রাচীন বটবৃক্ষের শিকড় আর ডালপালায় মোড়া এক ঐতিহাসিক মন্দির। মালদা জেলার বামনগোলা ব্লকের (Bamangola) শিবডাঙ্গি গ্রামের এই তিলভাণ্ডেশ্বর শিব মন্দিরের গায়ে লেগে রয়েছে পাল যুগের ইতিহাস, আর মহাভারতের জনশ্রুতি। সামনেই শিবচতুর্দশী, আর তাকে কেন্দ্র করেই এখন সাজোসাজো রব গ্রামজুড়ে। মালদা তো বটেই, এমনকি প্রতিবেশী রাজ্য বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকেও লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে এই পুণ্য তিথিতে।
মন্দিরটি একটি উঁচু টিলার ওপর অবস্থিত। বিশালাকার প্রাচীন গাছের শিকড়ে ঢাকা এই মন্দিরটি দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন প্রকৃতির কোলে আশ্রয় নেওয়া কোনও রহস্যময় স্থাপত্য। লোককথা অনুযায়ী, মহাভারতের পাণ্ডবরা অজ্ঞাতবাসের সময় এখানে কিছুদিন কাটিয়েছিলেন। তখন ভীম নিজের হাতে এই শিবলিঙ্গটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে পাল যুগের রাজারা এটি সংস্কার করেন। পুরাণের কথা না ধরলেও, ইতিহাসের বিচারেই এই মন্দিরটি ১২০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন। স্থানীয়দের মতে, প্রাচীনত্বের নিরিখে এই শিবলিঙ্গ দেশের প্রথম ১০টির মধ্যে একটি। পাল যুগের অবসানের পর আবারও গভীর জঙ্গলে হারিয়ে যায় এই মন্দিরটি। পরে ব্রিটিশ আমলে মন্দিরটি ফের জঙ্গলের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়।
শিবচতুর্দশীকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে এখন প্রবল উন্মাদনা। মন্দিরে পুজো দিতে আসা অনন্ত রায় বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, শিবচতুর্দশীর দিন এখানে মানুষের ঢল নামে। তিলভাণ্ডেশ্বর বাবার কৃপায় অনেকের মনস্কামনা পূরণ হয়।’ দূর বিহার থেকে এখানে পুজো দিতে আসেন সঞ্জয় ঝা। বললেন, ‘প্রতি বছর এখানে আসি। এই মন্দিরের পরিবেশ অন্যরকম মানসিক শান্তি দেয়।’
শিবরাত্রির সময় তো ভিড় হয় খুব। সেই ভিড় এড়াতে অনেক ভক্ত আগেভাগেই চলে এসেছেন। দেবিকা মিশ্র নামে এক গৃহবধূর কথায়, ‘শিবচতুর্দশীতে লক্ষ মানুষের ভিড়ে শিবের মাথায় জল ঢালতে হিমসিম অবস্থা হয়। তাই ভিড় এড়াতে দু’দিন আগেই এই মন্দিরে শিবের দর্শনে এসেছি।’
ঐতিহ্যবাহী এই মন্দির এখনও সেভাবে জায়গা পায়নি জেলার পর্যটন মানচিত্রে। আর তা নিয়ে এলাকার মানুষের আক্ষেপও রয়েছে। তাঁদের দাবি, যথাযথ সংরক্ষণ ও গবেষণা হলে এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

