উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ঝকঝকে ত্বক পেতে আমরা বাজারচলতি নামী-দামী সিরাম, ফেসওয়াস, ডে-ক্রিম বা নাইট ক্রিমের ওপর ভরসা করি। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, অতিরিক্ত রাসায়নিকের চাপে আপনার ত্বক আসলে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে? বর্তমানের বিউটি ট্রেন্ড বলছে, কৃত্রিম প্রসাধনী নয়, বরং কয়েকদিন প্রসাধনী থেকে দূরে থাকলেই ফিরবে ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা। একেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘স্কিন ফাস্টিং’ বা ত্বকের উপোস।
সহজ কথায় বলতে গেলে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুখ থেকে সমস্ত ধরণের ক্রিম, সিরাম, সানস্ক্রিন বা মেকআপ দূরে রাখা। শরীরকে ডিটক্স করার জন্য আমরা যেমন উপোস করি, তেমনই ত্বকের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রাকৃতিক তেলের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এই উপোস অত্যন্ত কার্যকর।
কেন করবেন ত্বকের উপোস?
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাদিন ত্বকের ওপর স্তরের পর স্তর প্রসাধনী মাখলে রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারায়। স্কিন ফাস্টিং-এর ফলে:
-
স্বাভাবিক তেলের ভারসাম্য: ত্বক নিজে থেকেই প্রয়োজনীয় তেল (Sebum) উৎপন্ন করতে শেখে।
-
ডিটক্সিফিকেশন: রাসায়নিকের প্রভাব কাটিয়ে ত্বক ভেতর থেকে শ্বাস নিতে পারে।
-
সংবেদনশীলতা হ্রাস: অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারে যাদের ত্বকে র্যাশ বা জ্বালা হয়, তাদের জন্য এটি মহৌষধি।
কীভাবে শুরু করবেন?
১. সপ্তাহে অন্তত একটি বা দুটি দিন কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না। ২. কেবল হালকা গরম জল বা সাধারণ জল দিয়ে মুখ পরিষ্কার রাখুন। ৩. এই সময় প্রচুর পরিমাণে জল এবং পুষ্টিকর খাবার খান। ৪. বাইরে রোদে বেরোলে ক্রিম না মেখে ছাতা বা ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন।
নতুন এই ফ্যাশন ট্রেন্ড বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আসল সৌন্দর্য বাইরের প্রলেপে নয়, বরং ত্বকের সুস্থতাতেই লুকিয়ে থাকে। তাই দামি ক্রিমের পেছনে না ছুটে মাঝে মাঝে আপনার প্রিয় ত্বককেও একটু ছুটির স্বাদ দিন।

