নাগরাকাটা: ব্লক সভাপতি থেকে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, আর এবার সরাসরি বিধানসভার (West Bengal Election 2026) লড়াই। নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হতেই জনজোয়ারে ভাসলেন আদিবাসী নেতা সঞ্জয় কুজুর (TMC candidate in Nagrakata)। মঙ্গলবার তৃণমূলের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই ডুয়ার্সের এই চা বাগান ঘেরা জনপদে খুশির হাওয়া। পোড়খাওয়া রাজনীতিক জন বারলা বা যোশেফ মুন্ডাদের মতো হেভিওয়েটদের টেক্কা দিয়ে সঞ্জয়ের প্রার্থী হওয়াকে তাঁর ‘কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার’ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
কেন বেছে নেওয়া হলো সঞ্জয়কে?
তৃণমূল সূত্রের খবর, সঞ্জয় কুজুরের (Sanjay Kujur) টিকিট পাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে তাঁর মানবিক ভাবমূর্তি। গত ৫ অক্টোবর বামনডাঙ্গা চা বাগানের দুর্যোগ পরিস্থিতিতে যখন মানুষ সর্বস্বান্ত, তখন হাফপ্যান্ট আর হাওয়াই চটি পরেই টানা দেড় মাস আর্তদের সেবায় দিনরাত এক করে দিয়েছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই নিবিড় সংযোগই তাঁকে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুডবুকে নিয়ে আসে। এছাড়াও, নাগরাকাটার জনবিন্যাস অনুযায়ী তিনি চম্পাগুড়ি সেক্রেট হার্ট চার্চের সম্পাদক হওয়ার সুবাদে খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বী ভোটারদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। আদিবাসী থেকে গোর্খা, বাঙালি—সব মহলেই তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত।
সঞ্জয়ের প্রতিক্রিয়া:
প্রার্থী পাওয়ার পর এদিন নাগরাকাটায় একটি বিশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনার জোয়ারে ভেসে সঞ্জয় বলেন, “দল আমার ওপর যে ভরসা রেখেছে, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। আমি তো কেবল প্রতীক মাত্র; মানুষ ভোট দেবেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন দেখে। আমার লক্ষ্য এবার অন্তত ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করা।”
ভোটের সমীকরণ:
২০১৬ সালের পর নাগরাকাটায় ফের ঘাসফুল ফোটানোই এখন তৃণমূলের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এদিকে বিজেপিও তাঁদের গতবারের জয়ী প্রার্থী পুনা ভেংরাকে পুনরায় ময়দানে নামিয়েছে। ফলে চা বলয়ের এই আসনে ‘ঘরের ছেলে’ সঞ্জয় বনাম বিজেপি-র গতবারের বিজয়ী প্রার্থীর লড়াই এখন টক অফ দ্য টাউন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিগত সমীকরণ ও মানবিক ইমেজের জোরালো মিশেলে নাগরাকাটায় এবার ‘পদ্ম পুকুরের জল’ ঘোলা করে দিতে পারেন সঞ্জয় কুজুর।

