হরষিত সিংহ, মালদা: তৃণমূল নেতা খুন কাণ্ডে (TMC Leader Murder Case) তৃণমূলের আরও এক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ফলে ওই খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তৃণমূলেরই দুই জনপ্রতিনিধি গ্রেপ্তার হলেন। গত ১০ জুলাই খুন হন তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রামীণ নেতা আবদুল কালাম আজাদ। লক্ষ্মীপুরে তাঁকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল। ঘটনায় জখম হয়েছিলেন আরও দুজন। ওই ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলের মাইনুল শেখকে। প্রায় চার মাসের মাথায় রবিবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয় আরও এক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য জাকির হোসেনকে। ঘটনায় আর কারা যুক্ত, তা জানতে জাকিরকে হেপাজতে নিয়ে জেরা করছে পুলিশ। তবে, ওই খুনের ঘটনায় কোনওভাবে জাকির যুক্ত নন দাবি করে সোমবার লক্ষ্মীপুরে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে গ্রামের একাংশ বাসিন্দা। যদিও নেতৃত্বে জাকিরের স্ত্রী আলিয়ারা বিবি। তিনি বলেন, ‘মানুষকে নিয়ে পথ অবরোধ করেছি। কারণ আমার স্বামীকে পুলিশ বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করেছে।’
বাবলা সরকার খুন কাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ইংরেজবাজার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তৃণমূল নেতা নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি। আবদুল কালাম আজাদ খুনেও তৃণমূলের লোকজনের সংখ্যা বাড়ছে। আবদুলের খুনের পরেই তদন্ত নেমে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানতে পারে ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মাইনুল। ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে আর কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে বলে অনেকেরই ধারণা হয়েছিল। কিন্তু রবিবার গভীর রাতে হঠাৎই পুলিশ গ্রেপ্তার করে জাকিরকে। যা জানাজানি হতে তোলপাড় পড়ে যায় এলাকায়। কেননা, ওই খুনের ঘটনায় জাকির জড়িত থাকতে পারেন, তেমন ধারণা কারও ছিল না। জাকিরের স্ত্রীর নেতৃত্বে সোমবার যাঁরা তৃণমূলের দলীয় পতাকা নিয়ে রাজ্য সড়ক অবরোধ করেছেন, তাঁরা জাকিরকে নির্দোষ দাবি করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। স্থানীয় রাকিব শেখ বলেন, ‘সাদাসিধা মানুষ জাকির। পুলিশ ভালো মানুষকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। উনি কোনও কিছুই করেননি।’ যদিও বেশিক্ষণ অবরোধ চলতে দেয়নি পুলিশ।
চলতি বছর ২ জানুয়ারি খুন হন বাবলা সরকার এবং ১০ জুলাই আবদুল কালাম। দুটি খুনের ঘটনায় তৃণমূল নেতা, দলের জনপ্রতিনিধি গ্রেপ্তার হওয়ায় সামনে আসছে দলীয় গোষ্ঠীকোন্দল। শুরু হয়েছে নতুন করে রাজনৈতিক তর্জাও। বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, ‘মালদা (Malda) জেলাজুড়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠছে। সমস্ত জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেস বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বাড়ছে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তৃণমূলে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। আমরা সকলেই বুঝতে পারছি তৃণমূলের (TMC) শেষের দিন চলে এসেছে।’ একের পর এক দলীয় নেতার গ্রেপ্তারি এবং বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়ে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। এমন পরিস্থিতিতে আইনের ওপর বিশ্বাসের কথা বলছে দলীয় নেতৃত্ব। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি শুভময় বসু বলছেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস আইনে বিশ্বাস করে। অভিযুক্তদের ছাড় দেয় না। অভিযোগ থাকলে পুলিশ গ্রেপ্তার করবে, তার মানে তা প্রমাণিত নয়। কারা পথ অবরোধ করেছে, বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন দেখছে।’

