উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর সাম্প্রতিক অভিযানের প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার পথে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গন্তব্য— যাদবপুর থেকে হাজরা মোড়।
প্রতিবাদের প্রেক্ষাপট: ‘ইলেকশন স্ট্র্যাটেজি’ চুরির অভিযোগ
বৃহস্পতিবার থেকেই উত্তপ্ত ছিল রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূলের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি তল্লাশি চালায়। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিকভাবে এঁটে উঠতে না পেরে বিজেপি ইডি-কে ব্যবহার করে তৃণমূলের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল এবং প্রার্থী তালিকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
মিছিলে নক্ষত্র সমাবেশ
এদিন মিছিলে শুধু রাজনৈতিক ওজন নয়, গ্ল্যামার দুনিয়ার উপস্থিতিও ছিল নজরকাড়া। মমতার পাশেই পা মেলাতে দেখা গিয়েছে:
• সায়নী ঘোষ: রাজ্য যুব তৃণমূল সভানেত্রী।
• দেব ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়: দুই সাংসদ এবং রুপোলি পর্দার তারকা।
• সোহম চক্রবর্তী ও লাভলি মৈত্র: বিধায়ক ও দলীয় নেতৃত্ব।
“যাদবপুরের মাটি আন্দোলনের মাটি”: মমতা
মিছিলের শুরুতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যাদবপুরের মাটি আন্দোলনের মাটি, এখান থেকেই প্রতিবাদের ভাষা তৈরি হয়। বিজেপি-ইডির এই যৌথ চক্রান্ত বাংলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না। ওরা ভাবছে ইডি দিয়ে ভয় দেখিয়ে আমাদের রণকৌশল জেনে নেবে? কিন্তু মনে রাখবেন, রাস্তাই আমাদের নতুন রাস্তা দেখাবে।”
আইনি লড়াইয়ের পথে তৃণমূল
সংঘাত শুধু রাজপথে সীমাবদ্ধ নেই, পৌঁছেছে আদালতের দরজাতেও। আইপ্যাক ও তৃণমূলের তরফে কলকাতা পুলিশের কাছে ইডির বিরুদ্ধে ‘নথি চুরির’ পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে এবং আজই বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানির কথা রয়েছে।
মিছিলের গতিপথ: যাদবপুর ৮বি মোড় থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ মিছিল টালিগঞ্জ, গড়িয়াহাট এবং রাসবিহারী মোড় হয়ে হাজরায় শেষ হবে। মিছিল শেষে হাজরা মোড়ে একটি সংক্ষিপ্ত সভা করার কথা রয়েছে মমতার, যেখান থেকে তিনি পরবর্তী আন্দোলনের দিশা ঘোষণা করতে পারেন।

