উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আবারও মুখোমুখি সংঘাতে জড়াল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। বুধবার নির্বাচন সদনে দুই পক্ষের বৈঠকের পর একে অপরকে সমাজমাধ্যমে কড়া ভাষায় আক্রমণ করায় তপ্ত হয়ে উঠল দিল্লির রাজনীতি। দুই পক্ষের বাক্যবাণে শোরগোল রাজনৈতিক মহলে।
এদিন বিবেচনাধীন ভোটার তালিকা থেকে বড় অংশের নাম বাদ পড়া নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূলের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। কিন্তু বৈঠকের পরেই নির্বাচন কমিশন তাদের অফিশিয়াল ‘এক্স’ হ্যান্ডলে সরাসরি তৃণমূলের নাম উল্লেখ করে আক্রমণ শানায়। কমিশন স্পষ্ট জানায়, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (WB Election 2026) কোনোভাবেই ‘ছাপ্পা ভোট’ বা ‘বুথ জ্যামিং’-এর জায়গা থাকবে না। একইসঙ্গে কমিশন তৃণমূল প্রতিনিধিদের জানিয়ে দিয়েছে যে, এবারের নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত এবং প্রলোভনমুক্ত।
चुनाव आयोग की तृणमूल कांग्रेस को दो टूक
पश्चिम बंगाल में इस बार चुनाव:
भय रहित,
हिंसा रहित,
धमकी रहित,
प्रलोभन रहित,
छापा रहित,
बूथ एवं सोर्स जामिंग रहित होकर ही रहेंगेECI’s Straight-talk to Trinamool Congress
This time, the Elections in West Bengal would surely be :… pic.twitter.com/p5fM8Uu337
— Election Commission of India (@ECISVEEP) April 8, 2026
কমিশনের এই পোস্টের পরেই পাল্টাপাল্টি জবাব দেয় তৃণমূল। শাসকদলের পক্ষ থেকে পাল্টা পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়, “একটি নিরপেক্ষ সাংবিধানিক সংস্থার থেকে কি এমন আচরণ আশা করা যায়?” এমনকি কমিশনকে তাদের ‘মুখোশ’ খুলে ফেলার চ্যালেঞ্জও জানায় ঘাসফুল শিবির।
বৈঠক শেষে বেরিয়ে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন। ডেরেকের দাবি, বৈঠকে কোনো সদর্থক আলোচনা হয়নি এবং তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। পাল্টাপাল্টি কমিশন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বৈঠকের সময় তৃণমূল প্রতিনিধিরা চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন এবং তাঁদের শিষ্টাচার বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। দুই পক্ষের এই চরম বিরোধিতার জেরে ২০২৬-এর নির্বাচনী আবহে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে। তৃণমূলের দাবি, বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে তা জনসমক্ষে আনুক কমিশন। সব মিলিয়ে, নির্বাচন সদনের অন্দরের লড়াই এখন আক্ষরিক অর্থেই পথ ও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

