Kaliachak | লক আপে নির্যাতন, থানায় আটকে সুচের খোঁচা  

শেষ আপডেট:

সেনাউল হক, কালিয়াচক: বৃদ্ধ পাঁপড় বিক্রেতাকে খুনের মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে এক রাজমিস্ত্রিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তিনদিন ধরে শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে কালিয়াচক থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। পেশায় রাজমিস্ত্রি জিয়াউল হক নামের ওই তরুণের বাড়ি কালিয়াচকের নওদা যদুপুর অঞ্চলের কাচারিপাড়া এলাকায়। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

অভিযোগ, ওই রাজমিস্ত্রির মাথায়, মুখে ও দেহের বিভিন্ন জায়গায় বুট দিয়ে বেধড়ক লাথি মারা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় সুচ ফুটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। আরও অভিযোগ, নির্যাতিত ওই তরুণ জল পান করতে চাইলে তাঁকে জল না দিয়ে মুখে প্রস্রাব করে দেওয়া হবে বলে পুলিশ হুমকি দিয়েছে। পুলিশের নির্যাতনে ওই তরুণ কাতরাতে শুরু করলে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। তিনদিন ধরে নির্যাতন চালানোর পর ওই তরুণ খুনের দায় স্বীকার না করায় পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপরেই পরিবারের লোকজন তাঁকে সিলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে চিকিৎসকরা তাঁকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করে দেন।

কালিয়াচকের এসডিপিও ফয়সাল রাজা বলেন, ‘ওই তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। তারপরেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে কোনওরকম মারধর করা হয়নি। যদি মারধরের কোনও অভিযোগ থাকে তাহলে লিখিতভাবে জানালে ঘটনার তদন্ত করা হবে। কোনও পুলিশ আধিকারিক যদি নির্যাতন চালিয়ে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে, হাসপাতালের বেডে শুয়ে জিয়াউল হক বলেন, ‘তিনদিন আগে আমাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসে। তারপর শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। বুট পরে পুলিশ আমাকে মারধর করতে শুরু করে। লাঠি দিয়েও প্রচুর মারধর করেছে। আমার জানুতে সুচ ফুটিয়ে দিয়েছে। আমাকে বারবার বলছি আমি নাকি খুন করেছি। আমি পুলিশকে বলছি আমি খুন করিনি স্যর। আমার বাড়িতে নাবালক ছেলেমেয়ে রয়েছে। ছেলেমেয়েদের কসম করে বলছি। আমি খুন করিনি। আমি রাজমিস্ত্রির কাজ করি। এভাবেই সংসার চলে। আমি কোনওদিন কোনও খারাপ কাজও করিনি। তার পরেও পুলিশ আমাকে মারধর চালিয়ে গিয়েছে। আমি জল খেতে চাইলে পুলিশ বলছে, প্রস্রাব খাওয়াবে। আমি কাতরাতে শুরু করি কিন্তু ওষুধ দেওয়া হয়নি।’

এদিন সন্ধ্যার পরে কালিয়াচক-১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সারিউল শেখের নেতৃত্বে কয়েকশো তৃণমূল কর্মী-সমর্থক কালিয়াচক থানার সামনে হাজির হন। থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। তৃণমূলের নেতাদের  অভিযোগ, খুনের প্রকৃত আসামিকে খুঁজে বের করতে পারছে না পুলিশ। তাই সাধারণ নিরীহ মানুষকে তুলে এনে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। দলের ব্লক সভাপতি সারিউল শেখের বক্তব্য, ‘আমরা থানার আইসির সঙ্গে কথা বলেছি। আইসি আমাদের বলেছেন বিষয়টি তিনি জানেন না। খোঁজ নিচ্ছেন।’

গত ২৬ নভেম্বর রাত ৮টা নাগাদ আজাহার মোমিন নামে এক বৃদ্ধ পাঁপড় বিক্রেতাকে মাথায় পরপর তিনটি গুলি করে দুষ্কৃতীরা। জালালপুরের নিচেরকান্দি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ওই জখম বৃদ্ধকে উদ্ধার করে স্থানীয় সুজাপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়। সেখানেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। এই খুনের ঘটনার এখনও কিনারা করতে পারেনি পুলিশ।

Sandip Sarkar
Sandip Sarkarhttps://uttarbangasambad.com/
Sandip Sarkar Reporter based in Darjeeling district of West bengal. He Worked in Various media houses for the last 22 years, presently working in Uttarbanga Sambad as Sr Sub Editor.

More like this
Related

Uttar Dinajpur | গোতিতে বর্ষায় স্কুল যাওয়া বন্ধ, প্রশাসন উদাসীন, চাঁদা তুলে সাঁকো তৈরি গ্রামবাসীর

মহম্মদ আশরাফুল হক, গোয়ালপোখর: উদ্দেশ্য ছিল, সেতু নির্মাণ হবে...

Malda | মালদায় খুশির হাওয়া, হরিশ্চন্দ্রপুর ও ভালুকায় ৩টি দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজ

হরিশ্চন্দ্রপুর: শনিবার মালদা টাউন স্টেশন (Malda Town Station) থেকে...

Malda News | মৌসমকে সামনে রেখেই মালদায় ঘুরে দাঁড়ানোর ছক কংগ্রেসের, বিমানবন্দর ইস্যুতে ৩১ জানুয়ারি বড় আন্দোলনের ডাক

জসিমুদ্দিন আহম্মদ, মালদা: চলতি মাসে মৌসম বেনজির নুরের (Mausam...

Hili | হিলি পুলিশের ‘পথপ্রদর্শক’ হয়ে সিআরপিএফ-এ নাম লেখালেন কৃষক-পুত্র রকি

বিধান ঘোষ, হিলি: সীমান্তের পাড়াগাঁয়ে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য...