শিলিগুড়ি: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে লাচেনে আটকে থাকা পর্যটক উদ্ধারের (Tourist Rescue) দিনই বৃহস্পতিবার ’২৩-এর ক্ষতচিহ্ন নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই চালিয়ে যাওয়া উত্তর সিকিমের টুং-নাগা পরিদর্শন করলেন সুইৎজারল্যান্ডের (Switzerland) রাষ্ট্রদূত মায়া তিসাফি। ২০২৩-এর ৪ অক্টোবর সাউথ লোনাক লেক বিপর্যয়ের জেরে উত্তর সিকিমের আরও কয়েকটি জায়গার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল টুং-নাগা। মৃত্যুমিছিলের পাশাপাশি জলের স্রোতে সমস্ত পরিকাঠামো মাটিতে মিশেছিল। ওই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এখানকার বাসিন্দারা। এদিন প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় দক্ষ বিশেষজ্ঞদের একটি দল নিয়ে এলাকায় পৌঁছান রাষ্ট্রদূত মায়া। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশনের সিনিয়ার রিজিওনাল অ্যাডভাইজার পিরে ভেস পুভেলাউড। দোভাষীর সাহায্যে তাঁরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনা সম্পর্কে বিশদে জানার চেষ্টা করেন। যদিও কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছিল, পরবর্তীতে এলাকার পরিস্থিতি কেমন ছিল, এই সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রতিনিধিদলটির সামনে তুলে ধরেন মংগনের বিডিও কৈলাস থাপা। প্রশাসন ও স্থানীয়দের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে এবং সমন্বয় রেখে কাজ হলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অনেকাংশেই ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন সুইৎজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত। এই সংক্রান্ত কিছু পরামর্শও তিনি দিয়েছেন সিকিম প্রশাসনকে।
অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে লাচেনে আটকে থাকা পর্যটকদের। মংগন জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তারুণ চু সেতু সংলগ্ন অস্থায়ী ঝুলন্ত সেতু দিয়ে পর্যটকদের উদ্ধার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ১,৩২১ জন পর্যটক এবং ৮৪ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্যেককেই সুস্থভাবে গ্যাংটক পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বুধবারই প্রথম উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু লাচেন থেকে জিরো পয়েন্ট, লাচুং হয়ে গ্যাংটকে পৌঁছাতে পেরেছিল মাত্র ১২১টি গাড়ি। নতুন করে তুষারপাত শুরু হওয়ায় বাকি পর্যটকরা আটকে পড়েন হোটেলেই। ওই রুটে এখনও তুষারপাত চলতে থাকায় ঝুলন্ত সেতু ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান মংগনের জেলা শাসক অনন্ত জৈন। চুংথাং-লাচেন রোডের তারুণ চু সেতুর মুখে বড় ধরনের ধস নামায় লাচেনে আটকে পড়েছিলেন পর্যটকরা।



