রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়িতে সিটি বুকিংয়ে ট্রেনের রিজার্ভেশন টিকিট কেটে অনলাইনে টাকা দিয়ে প্রতারিত হলেন এক ব্যক্তি। দুই দফায় তিনি ৮২৭০ টাকা দিয়েছেন। তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিলেও রেলের টিকিট বিক্রির বরাতপ্রাপ্ত সংস্থা আইআরসিটিসি’র অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। ওই সময় সংশ্লিষ্ট বুকিং কাউন্টার থেকে বলা হয়েছিল টাকা রিফান্ড হয়ে যাবে। দু’মাস পরও সেই টাকা ফেরত আসেনি বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানতে চেয়ে তথ্য জানার আইনে (আরটিআই) চিঠি দেন চয়ন ভট্টাচার্য নামে ওই ব্যক্তি। জবাবে রেলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় রেল টাকা রিফান্ড করে দিলেও ব্যাংক থেকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। আরটিআইয়ের সঙ্গে রেল একটি চিঠির প্রতিলিপিও সংযুক্ত করে পাঠায়। সেই চিঠি রেলের তরফে উপরিউক্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ট্র্যানজ্যাকশন এবং বেশ কয়েকটি ট্র্যানজ্যাকশন নিয়ে সমস্যা হয়েছে এবং সেখানে সাইবার প্রতারণার আশঙ্কা করেছে রেল। কিন্তু রেলের তরফে বিষয়টি নিয়ে থানায় কোনও অভিযোগ করা হয়নি।
এদিকে, প্রতারিত ব্যক্তি টাকা ফেরতের দাবিতে রেল থেকে শুরু করে পুলিশ, ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর সর্বত্র লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর থেকে দু’পক্ষকে চিঠি দিয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রেলের কোনও আধিকারিক উপস্থিত না হওয়ায় ঘটনার মীমাংসা হয়নি। তাই ওই ব্যক্তি এবার কনজিউমার কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। চয়ন ভট্টাচার্য নামে ওই ব্যক্তির বক্তব্য, ‘সিটি বুকিংয়ের এই অফিসে এর আগেও অনেককে একই সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আমাকে দুইবার অনলাইনে পেমেন্ট করানো হল। এরপর নগদেও টাকা নেওয়া হল। কিন্তু আমি এখনও টাকা রিফান্ড পাইনি। এভাবে কত হাজার হাজার মানুষকে প্রতারিত হতে হচ্ছে। কিন্তু রেল কোনও পদক্ষেপই করছে না।’ উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহারের ডিআরএম কিরেন্দ্র নাঢ়া ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য মেলেনি। তিনি এসএমএসেরও জবাব দেননি। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেখলেও জবাব দেননি।


শিলিগুড়ির বাসিন্দা চয়ন ভট্টাচার্য গত ৯ এপ্রিল ট্রেনের টিকিট কাটার জন্যে শিলিগুড়িতে রেলের সিটি বুকিং কাউন্টারে যান। সেখান থেকে ৪১৩৫ টাকার রিজার্ভেশন টিকিট কাটেন তিনি। খুচরো নেই বলে কাউন্টার থেকে বলা হয় অনলাইনে টাকা প্রদান করতে। কাউন্টারের পাশেই থাকা কিউআর কোডে স্ক্যান করে প্রথমে ৪১৩৫ টাকা দেন তিনি। কিন্তু কাউন্টার থেকে জানানো হয় টাকা জমা পড়েনি। তাই আবার পেমেন্ট করতে বলা হয়। তিনি আবার ৪১৩৫ টাকা অনলাইনে দেন। ওই সময়েও টাকা রেলের অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ। কাউন্টার থেকে বলা হয় নগদ টাকা দিয়ে দিতে। যে টাকা কাটা হয়েছে সেগুলি রিফান্ড হয়ে যাবে। এরপর দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও টাকা ফেরত না পেয়ে ওই ব্যক্তি রেলের সিসিএমআইয়ের (চিফ কমার্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট ইনস্পেকটর) দ্বারস্থ হন। সেখান থেকে কোনও সাহায্য না পেয়ে তিনি কাটিহারের ডিআরএমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কোনও দিক থেকেই কোনও জবাব না পেয়ে শেষপর্যন্ত রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোকে টুইট করেন তিনি। এরপরেই তৎপরতা শুরু হয়। রেলের আধিকারিকরা কথা বলেন চয়নের সঙ্গে। কিন্তু আদতে কাজের কাজ কিছু হয়নি। আধিকারিকরা কথা বললেও টাকা রিফান্ডের ব্যবস্থা হয়নি। এরপর আরটিআই করে তাঁর অভিযোগের স্ট্যাটাস জানতে চান চয়ন। এবার রেল গোটা ঘটনার তদন্ত করে। তদন্তে জানা যায়, শুধু ওই ব্যক্তি নন আরও বেশ কয়েকজন একইভাবে প্রতারিত হয়েছেন। রেলের তরফে টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রেলের যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হয় সেই ব্যাংক টাকা রিলিজ করলেও গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি। কারণ খোঁজ করতে গিয়ে দেখা যায় মাঝে যে পেমেন্ট গেটওয়ে রয়েছে সেখানেই গলদ রয়েছে। ওই গেটওয়ে থেকেই টাকা অন্যত্র চলে গিয়েছে। তাই রেল এবং আইআরসিটিসির তরফে চিঠি দিয়ে ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে সমস্যা সমাধান করে টাকা রিফান্ড করার ব্যবস্থা করার আবেদন জানানো হয়েছে।

