উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের (EC) কড়া নির্দেশের মুখে নবান্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) মাঝপথে কমিশনের অনুমতি ছাড়াই তিন আইএএস (IAS) অফিসারকে বদলি করায় তৈরি হওয়া বিতর্কে অবশেষে জবাব পাঠাল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO) এই চিঠি পাঠিয়েছে নবান্ন।
ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়া চলাকালীন এসআইআর-এর (Special Interactive Roll) কাজে যুক্ত আধিকারিকদের বদলি নিয়ে নবান্ন ও কমিশনের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। গত ২৮ নভেম্বর ২০২৫-এ ১২ জন রোল অবজার্ভার ও ৫ জন ডিভিশনাল কমিশনারকে নিয়োগ করেছিল কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, এই আধিকারিকরা কমিশনের ‘ডিমড ডেপুটেশন’-এ থাকেন এবং তাঁদের বদলির জন্য কমিশনের আগাম অনুমতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, রাজ্য সরকার ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২১ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে তিন জন রোল অবজার্ভারকে বদলি করে, যা কমিশনের ২৭ অক্টোবরের নির্দেশের সরাসরি লঙ্ঘন।
বদলি হওয়া তিন আধিকারিক: কমিশনের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছেন তিন সিনিয়র অফিসার ১. অস্বিনী কুমার যাদব (উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর) ২. রণধীর কুমার (উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা উত্তর) ৩. স্মিতা পাণ্ডে (পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূম)
বৃহস্পতিবার পাঠানো জবাবে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ওই তিন অফিসার এসআইআর-এর গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত এবং রোল অবজার্ভার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের ওপর কাজের বিপুল চাপ রয়েছে। সেই ‘কাজের চাপ কমাতেই’ তাঁদের কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নবান্নের দাবি, প্রশাসনিক কাজের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ, এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।
তবে কমিশন এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নয়। কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য, এই বদলি আইনত যুক্তিসঙ্গত নয় এবং এটি একটি ‘সংবেদনশীল’ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নষ্ট করতে পারে। কমিশন ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে যে, ওই তিন আধিকারিকের বদলির বিজ্ঞপ্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। বাতিল করার পর সেই রিপোর্ট কমিশনকে জমা দিতে হবে। ভবিষ্যতে কমিশনের অনুমতি ছাড়া এমন পদক্ষেপ যেন আর না নেওয়া হয়। নবান্নের এই জবাবের পর কমিশন পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

