উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election 2026) যত এগিয়ে আসছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। মঙ্গলবার রামপুরহাটের সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বিজেপিকে ‘পরিযায়ী পাখি’ বলে কটাক্ষ করে তিনি দলীয় কর্মীদের কড়া বার্তা দেন যেন রাজ্যে বিজেপিকে কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিতে না দেওয়া হয়। ঠিক তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার সেই মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (BJP Leader Dilip Ghosh)।
দীর্ঘদিন কিছুটা ব্যাকফুটে থাকার পর ফের নিজের পুরনো মেজাজে ধরা দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। অভিষেকের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “তৃণমূল শুরু থেকেই বলছে বিজেপিকে মাথাচাড়া দিতে দেবে না। আর এই কথা বলতে বলতেই বিজেপি আজ রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপির উত্থান রুখতে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, সংঘর্ষ এমনকি খুনের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু তাতে লড়াই থামানো যায়নি। দিলীপের দাবি, বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে বিজেপির এই সংগ্রাম চলছে এবং আগামীতে রাজ্যে পরিবর্তন ঘটিয়েই তারা শান্ত হবেন।
নির্বাচনী লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও দুই দলের মধ্যে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি রাজ্য সফরে এসে ২০০-র বেশি আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। এর বিপরীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তৃণমূল ২৫০-র বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় ফিরবে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ লোকসভা ভোটের উদাহরণ টেনে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূল ৪২-এ ৪২ পাওয়ার দাবি করেছিল, কিন্তু ফল কী হয়েছে তা সবাই দেখেছে। এখন ওরা ২৫০ কেন, চাইলে ২৯৪টি আসনের দাবিও করতে পারে, কিন্তু তাতে বাস্তব বদলাবে না।” তাঁর মতে, বাংলার মানুষ এখন অনেক সচেতন এবং তারা আর পিছনের দিকে তাকাতে চান না।
পাশাপাশি, ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা এসআইআর (SIR) ইস্যু নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধতে ছাড়েননি দিলীপ। তিনি দাবি করেন, আগে তৃণমূল বলেছিল কোনো নাম বাদ যাবে না, কিন্তু বাস্তবে নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়িতে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভুয়ো নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। দিলীপের মতে, শাসক দলের কাছে এখন মানুষের সামনে যাওয়ার মতো কোনো ইস্যু নেই, তাই তারা পুরনো নেতাদের আঁকড়ে ধরে বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে দিলীপ ঘোষের এই সক্রিয়তা এবং অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

