উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা আজ প্রকাশিত হতেই (Tmc Candidate List) উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নজর কেড়েছে আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ। প্রার্থীতালিকা থেকে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে বাদ পড়েছেন ঘাসফুল শিবিরের দুই হেভিওয়েট নেতা— নাটাবাড়ির রবীন্দ্রনাথ (Rabindranath Ghosh) ঘোষ এবং আলিপুরদুয়ারের সৌরভ চক্রবর্তী (Sourav Chakraborty। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তে উভয় নেতার দীর্ঘদিনের অনুগামীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিসংখ্যান, ভোটব্যাঙ্কের সূক্ষ্ম ওঠানামা এবং স্থানীয় স্তরের নিজস্ব গোপন সমীক্ষার ভিত্তিতেই শাসকদল এবার উত্তরবঙ্গে এই আমূল পরিবর্তন এনেছে। আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে সৌরভ চক্রবর্তী এবং নাটাবাড়ি কেন্দ্রে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের জায়গায় নতুন মুখের উপর ভরসা রেখেছে দল। নাটাবাড়িতে প্রার্থী করা হয়েছে শৈলেন বর্মাকে। আলিপুরদুয়ারে প্রার্থী হয়েছেন বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া সুমন কাঞ্জিলাল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গে বিরোধী শিবিরের শক্তিবৃদ্ধি রুখতে এবং নিচুতলার সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া প্রশমিত করতেই তৃণমূল নেতৃত্ব এই কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। অতীতের দীর্ঘ আনুগত্য বা আবেগের চেয়ে এবার প্রার্থীর বর্তমান জনসংযোগ, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং জয়ের গাণিতিক সম্ভাবনাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে কোচবিহারের রাজনীতিতে দাপটের সঙ্গে কাজ করা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের জন্য এই সিদ্ধান্ত সন্দেহাতীতভাবে একটি জোরদার রাজনৈতিক ধাক্কা। ওয়াকিবহাল মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে, তবে কি এখানেই রবি ঘোষের দীর্ঘ ও বর্ণময় রাজনৈতিক কেরিয়ারের চূড়ান্ত ইতি ঘটতে চলেছে? দলীয় নেতৃত্বের একাংশের দাবি, টিকিট না-পাওয়া এই অভিজ্ঞ নেতাদের পরবর্তীতে সাংগঠনিক স্তরে কাজে লাগানো হতে পারে। কিন্তু প্রত্যক্ষ নির্বাচনি ময়দান থেকে এই অপসারণ তাঁর কেরিয়ারে একটি গভীর প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল।
একইভাবে, আলিপুরদুয়ারে সৌরভ চক্রবর্তীর অনুপস্থিতি জেলার রাজনৈতিক পাটিগণিতে বড়সড় বদল আনছে। নির্বাচনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে এই দুই নেতার ক্ষুব্ধ অনুগামীরা দলের অন্দরে কোনো বিদ্রোহ বা অন্তর্ঘাত করেন কি না, সেটাই এখন শাসকদলের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও এখনও তেমন কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।

