ওয়াশিংটন: কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চাইছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প!
নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প (Donald Trump) মুখোমুখি হবেন প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিসের (Kamala Harris)। দুই প্রার্থীর প্রথম বিতর্কটি হবে ১০ সেপ্টেম্বর মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি স্টুডিওতে। ইতিমধ্যে জনমত সমীক্ষায় ট্রাম্প ও কমলার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। যদিও সমীক্ষায় একটু হলেও ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন কমলা।


প্রথম বিতর্কেই কমলাকে কবজা করতে অভিনব কৌশল নিয়েছেন ট্রাম্প। ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে নির্বাচনি যুদ্ধে তিনি সাহায্য নিচ্ছেন আর এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিকের। তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাক্তন নেত্রী তুলসী গাবার্ড (Tulsi Gabbard)। তুলসীই হতে পারেন দ্বিতীয়বার দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ট্রাম্পের ট্রাম্প কার্ড।
ট্রাম্পের বাগানবাড়িতে রীতিমতো বাগযুদ্ধের মহড়া চলছে। সেই অনুশীলনে রিপাবলিকান নেতার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তুলসী। বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট। তিনি জানিয়েছেন, ‘পেশাদার তার্কিক হিসাবে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ও খ্যাতি রয়েছে ট্রাম্পের। বিতর্কের জন্য তাঁর কোনও প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। তবে তিনি তাঁর বক্তব্যকে আরও শানিত করে তুলতে তুলসী গাবার্ডের মতো কয়েকজন নীতি-উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। ২০২০ সালের এক বিতর্কসভায় কমলা হ্যারিসকে জোর টক্কর দিয়েছিলেন তুলসী। ফলে কীভাবে কথার প্যাঁচে কমলাকে ধরাশায়ী করা যায়, সে নিয়ে তুলসীর মতামত নিচ্ছেন ট্রাম্প।’
কে এই তুলসী গাবার্ড? এক সময়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতেই ছিলেন তুলসী। ২০২০ সালে জো বাইডেনের সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদের দৌড়েও তিনি শামিল হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যান। এরপর বাইডেন সরকার ও দলীয় সহকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলতে দেখা যায় তুলসীকে। তাঁর দাবি ছিল, বর্তমান সরকার প্রতিটি ইস্যুতে বর্ণ বিচার করে কাজ করে। শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভকে ইন্ধন জোগায়। ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে ‘যুদ্ধবাজ ও বর্ণবিদ্বেষী’ বলেও তোপ দেগেছিলেন ‘মার্কিন হিন্দুত্ববাদী’ তকমা পাওয়া তুলসী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুরাগী ও সমর্থক হিসাবে পরিচিত তুলসীকে সঙ্গে নিয়ে অনাবাসী ভারতীয়দেরও ট্রাম্প কাছে টানতে চাইছেন বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

