উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা। ইরান ও আমেরিকার (Iran-US) সংঘাত এবার এক বেনজির মোড় নিল। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে শেষবারের মতো ৪৮ ঘণ্টার চরম সময়সীমা বেঁধে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump Iran Attack Warning)। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বিস্ফোরক মেজাজে ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ না হলে ইরানকে ‘নরকের’ সম্মুখীন হতে হবে। এমনকি, হামলার দিন ও সময় পর্যন্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের ‘মঙ্গলবার রাত ৮টা’র হুঁশিয়ারি
সাধারণত সামরিক অভিযানের সময় গোপনীয় রাখা হলেও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) প্রথা ভেঙে টুইট করেছেন— “মঙ্গলবার, রাত ৮টা, ইস্টার্ন টাইম!” আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, এই নির্দিষ্ট সময়েই ইরানের ওপর বড়সড়ো হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্পের দাবি, ইরান যদি জলপথের অবরোধ না সরায়, তবে তাদের পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে পরিকল্পিত হামলা চালানো হবে। ওয়াকিবহাল মহলের উদ্বেগ, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই হামলার ফলে সাধারণ ইরানি নাগরিকদের জীবন চরম সংকটে পড়বে।
মাথা নত করতে নারাজ তেহরান
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুঁশিয়ারি এবং অশালীন ভাষার প্রয়োগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ইরান। সে দেশের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, ট্রাম্প আসলে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করছেন। তিনি সতর্ক করে দেন যে, আমেরিকা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং ট্রাম্প গোটা দেশকে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। কোনো হুমকির কাছে ইরান মাথা নত করবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
ভারতের ভূমিকা ও কূটনৈতিক তৎপরতা
পরিস্থিতি জটিল হতে দেখে তড়িঘড়ি তৎপর হয়েছে ভারত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরকে ফোন করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। এরপরই মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসেন জয়শংকর। মঙ্গলবার রাত ৮টার সেই ‘ডেডলাইন’ কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

