উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানের ওপর এখনই কোনও সামরিক অভিযান চালাবে না আমেরিকা। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে তেহরানকে এমনই বার্তা পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump Iran Peace Message)। ‘জেরুজালেম পোস্ট’ ও পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইরান—উভয় দেশের আধিকারিকরাই এই বার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমোলি মোকাদ্দমের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের কাছে সংযত আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন যে, আমেরিকার আপাতত ইরানে হামলার কোনও পরিকল্পনা নেই। ইরানে চলা সরকার বিরোধী প্রবল বিক্ষোভ এবং তার জেরে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনার মাঝেই ট্রাম্পের (Donald Trump) এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিক্ষোভ ও ট্রাম্পের সতর্কতা
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত ২,৬০০ থেকে ৩,০০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ১৯৭৯ সালের পর ইরানে এটি অন্যতম ভয়াবহ অস্থিরতা। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি খবর পেয়েছেন ইরানে হত্যালীলা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বন্ধ হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে যে ইরানে হত্যাকাণ্ড থামছে এবং মৃত্যুদণ্ডের কোনও পরিকল্পনা নেই। আমি ‘ওপারের’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকে এটা জেনেছি। আমরা বিষয়টি নজরে রাখব। তবে যদি ফের প্রাণহানি ঘটে, তবে আমি খুবই ক্ষুব্ধ হব।”
এরফান সুলতানি ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
বিক্ষোভের মাঝেই ২৬ বছর বয়সী প্রতিবাদী ইরানি যুবক এরফান সুলতানির মৃত্যুদণ্ড আন্তর্জাতিক মহলের নজরে ছিল। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ফক্স নিউজের একটি রিপোর্ট শেয়ার করে জানান, ট্রাম্পের সতর্কবার্তা যাওয়ার পরেই ওই বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড রদ করা হয়েছে। তিনি লেখেন, “এটা খুব ভালো খবর। আশা করি এই ধারা বজায় থাকবে।”
হুঁশিয়ারি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
পরিস্থিতি ঘোরালো হতেই ইরান (Iran) তার প্রতিবেশী দেশগুলিকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছিল। তেহরানের তরফে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিশাহী এবং তুরস্ককে জানিয়ে দেওয়া হয়, আমেরিকা যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে ওইসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে ইরান। এই উত্তেজনার আবহে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন কর্মীকে সরানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল, যাকে কূটনীতিকরা ‘কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন’ বলে উল্লেখ করেছেন। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবা হলেও আপাতত কূটনীতিকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। যদিও ট্রাম্প এর আগে স্পষ্ট করেছিলেন, “নিরপরাধ বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি আধিকারিকদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল।” তবে বর্তমানে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি দাবি করেছেন, দেশে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

