উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মাঝে এবার হরমুজ় প্রণালীতে (Strait of Hormuz) আটকে পড়া জাহাজগুলিকে নিরাপদে বের করে আনার ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। পশ্চিম এশিয়ার সময় অনুযায়ী সোমবার সকাল থেকেই এই বিশেষ উদ্ধারকাজ শুরু হবে। ট্রাম্প এই অভিযানের নাম দিয়েছেন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বা ‘স্বাধীনতা অভিযান’।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, একাধিক দেশ যারা এই আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি যুক্ত নয়, তাদের জাহাজ ও নাবিকরা বর্তমানে হরমুজ় প্রণালীর জলসীমায় আটকে রয়েছে। তিনি এই নাবিকদের ‘নিরপেক্ষ ও নিরীহ দর্শক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তারা যাতে স্বাধীনভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে পুনরায় কাজ শুরু করতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই আমেরিকা এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।


ট্রাম্পের দাবি, এটি মূলত একটি মানবিক প্রচেষ্টা। দীর্ঘ দিন আটকে থাকার ফলে জাহাজগুলিতে খাদ্য ও অত্যাবশ্যকীয় রসদের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোচনে সাহায্য করা শুধু ওই দেশগুলির জন্যই নয়, বরং ইরানসহ সমগ্র পশ্চিম এশিয়ার জন্য একটি সদয় আচরণ হিসেবে গণ্য হবে। প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ইতিবাচক’ পথেই এগোচ্ছে। তবে তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ (Project Freedom)-এ কেউ হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করলে আমেরিকা তার কঠোর জবাব দেবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলি বাহিনীর ইরান আক্রমণের পর থেকেই ওই অঞ্চলে সংঘাত তীব্র হয়, যার ফলে ব্যাহত হয় পণ্য ও জ্বালানি চলাচল। আমেরিকা বর্তমানে ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ চালাচ্ছে।
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে সহজভাবে নিচ্ছে না তেহরান। ইরান পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, হরমুজ় প্রণালীর সামুদ্রিক শাসনব্যবস্থায় আমেরিকার যে কোনও হস্তক্ষেপ ‘যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন’ হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ না নিয়েই নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যা বর্তমানে ওয়াশিংটনের পর্যালোচনায় রয়েছে।

