বাবাই দাস, তুফানগঞ্জ: সিগন্যাল বাতি রয়েছে অথচ হাত দিয়ে যানজট সামলাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। ব্যস্ত মোড়ে লোডশেডিং হলে ঠিক এই ছবিটাই ভেসে ওঠে তুফানগঞ্জ শহরে (Tufanganj)। ব্যাটারির সাহায্যে সিগন্যাল বাতি না জ্বলায় লোডশেডিং হলে যখন-তখন নিভে যায় আলো। আর তাতেই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পেরোতে হয় পথচারীদের। সমস্যাটি শুরু থেকে চলতে থাকলেও উদাসীন প্রশাসন। যদিও এ ব্যাপারে তুফানগঞ্জ থানার ট্রাফিক ওসি বিপুল বর্মনের বক্তব্য, ‘লোডশেডিং খুব একটা হচ্ছে না। তাই সেরকমভাবে সমস্যা হচ্ছে না। তবে কোনও কারণে লোডশেডিং হয়ে গেলে আমরা হ্যান্ড সিগন্যাল দিয়ে ভিড় সামলাচ্ছি। সবসময় সিগন্যাল বাতির মাধ্যমেই যাতে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে ব্যাপারে খুব শীঘ্রই সংস্থাকে জানাব।’
দুর্ঘটনা কমাতে বছর আড়াই আগে তুফানগঞ্জ শহরের থানা মোড় এলাকার ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর লাগানো হয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে সম্প্রতি শহরের রামহরি মোড় এলাকাতেও লাগানো হয়েছে সিগন্যাল বাতি। উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ ওই জাতীয় সড়ক এলাকা। সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ওই এলাকা। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় লোডশেডিং হলে নিভে যাচ্ছে সিগন্যালের বাতি। সেই মুহূর্তে জ্যাম সামলাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। হ্যান্ড সিগন্যাল দিয়েই গাড়ি পারাপার করাচ্ছে তারা। তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
বছরখানেক আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও সারাদিন জ্বলত সিগন্যাল বাতি। শহরের সচেতন নাগরিকেরা চান তেমন ব্যবস্থা ফিরে আসুক। শুক্রবার সকালে বাজারে আসার পথে কদমতলা এলাকার বাসিন্দা রমেশ বসাক বললেন, ‘শহরের দক্ষিণের বাসিন্দাদের প্রধান রাস্তা থানা চৌপথি। দুটো সবজি কিনতে গেলেও এই রাস্তা দিয়েই পারাপার হতে হয় বাসিন্দাদের। অথচ সিগন্যাল বাতিতে ব্যাটারির ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি প্রশাসন দেখুক।’ আরেক বাসিন্দা দীপঙ্কর বিশ্বাসের বক্তব্য, ‘জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার খবর বর্তমানে দৈনন্দিন রুটিন। অথচ এত সুন্দর ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি থাকার পরেও ব্যাটারির ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অন্য শহরে থাকলেও তুফানগঞ্জে কেন নেই? এ ব্যাপারে প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা।’

