কলম্বো ও নয়াদিল্লি: হাজারের বেশি মৃত্যু। গৃহহীন লক্ষাধিক মানুষ। সেনিয়ার ও দিতওয়া, জোড়া ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে এশিয়া জুড়ে বিপর্যয়। বিরল ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ার এবং দিতওয়ার মিলিত তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং ভারতের মতো দেশগুলিতে সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এই অঞ্চলে এক চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নভেম্বরের শেষ দিকে আঘাত হানা এই দ্বৈত ঘূর্ণিঝড় ভারত মহাসাগরের আশপাশের দেশগুলির পরিকাঠামো ও জনজীবনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত রেখে গিয়েছে।
প্রথমে ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ারকে আবহাওয়াবিদরা তার উৎপত্তিস্থলের কারণে ‘বিরলতম’ বলে চিহ্নিত করেছেন। এটি ভারত মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালীর কাছে সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে নিরক্ষরেখার কাছাকাছি ঘূর্ণিঝড় তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ঘূর্ণন শক্তি (কোরিওলিস প্রভাব) দুর্বল হয়। সাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণ তাপমাত্রা সেনিয়ারের জন্ম দেয়। সেনিয়ারের আঘাতে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। সেখানে অন্তত ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। থাইল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৭৩৪ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। সেনিয়ারের তাণ্ডবে ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার বহু গ্রামও বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। দু-দেশের বাসিন্দারা এবারের বিপর্যয়কে তাঁদের দেখা ‘সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
সেনিয়ার দুর্বল হওয়ার পর বঙ্গোপসাগরে জন্ম নেয় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া, যা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে শ্রীলঙ্কায়। ভূমিধস ও বন্যায় দ্বীপদেশে অন্তত ৩৭০ জন নিহত এবং ৪০০-র বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় এবং পানীয় জলের সংকট তৈরি হওয়ায় শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ১ লক্ষ ২২ হাজার মানুষ ত্রাণশিবিরগুলিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
যদিও ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া সরাসরি ভারতে প্রবেশ করেনি, তবে এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি শ্রীলঙ্কা থেকে বঙ্গোপসাগরের মধ্য দিয়ে উত্তর দিকে সরে যাওয়ার সময়, এর প্রভাবে ভারতের তামিলনাডু, পুদুচেরি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হয়। এই অতিবৃষ্টির ফলে তামিলনাডুর কাবেরী ব-দ্বীপ অঞ্চলে প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর চাষের জমি জলের নীচে চলে গিয়েছে। দেওয়াল ধসে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ভারতে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

