তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট (এইচএমআই)-এর (HMI) সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক জুড়ল। সাফল্যের সঙ্গে প্যাংগং সো অঞ্চলের জোড়া শৃঙ্গে সফলভাবে আরোহণ করলেন এইচএমআইয়ের দুই প্রশিক্ষক রবিন গুরং ও জুবিন রাই। দেশের তিনটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পর্বতারোহণ প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল এই দুই পর্বতশৃঙ্গ জয় করেছে। সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে এই সাফল্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
অজানাকে জানার আগ্রহে বিভিন্ন শৃঙ্গ জয়ের জন্য অভিযানে যান অভিযাত্রীরা। এই আগ্রহ থেকেই প্যাংগং সো বেছে নিয়েছিল ভারতীয় দলটি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪,২৫০ ফুট উচ্চতায় থাকা লবণাক্ত হ্রদটিকে বেছে নেওয়ার পিছনে রয়েছে ভৌগোলিক একটি কারণও। কেননা, হ্রদটির দুই-তৃতীয়াংশ রয়েছে চিনে এবং এক-তৃতীয়াংশ ভারতের লাদাখে। ভারতের অংশেই রয়েছে অঞ্চলটির সবোর্চ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট কাংজু কাংরি (৬,৭১০ মিটার বা ২২,০০৮ ফুট) এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাউন্ট মেরাগ-থ্রি (উচ্চতা ৬,৪৮০ মিটার বা ২১,২৫৪ ফুট)। আট পর্বতারোহীর দলটি পাঁচদিনের মধ্যে দুটি শৃঙ্গ জয় করেছে বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে। ২৯ জুলাই মেরাগ-থ্রি জয় এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যপূরণ হয় ২ অগাস্ট কাংজু কাংরিতে পা রাখার পর।


উত্তর কাশীর নেহরু ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং (এনআইএম), পহলগামের জওহর ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড উইন্টার স্পোর্টস এবং দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেরিয়ারিং ইনস্টিটিউট (এইচএমআই)-এর যৌথ উদ্যোগেই মূলত অভিযানটি হয়। আটজনের প্রত্যেকেই অভিজ্ঞ পর্বতারোহী। জানা গিয়েছে, এইচএমআইয়ের দুই পর্বতারোহী রবিন গুরুং এবং জুবিন রাই দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা।
২৪ জুলাই সোনমার্গে অভিযানের ফ্ল্যাগঅফ করেন কর্নেল হেমচন্দ্র সিং। উপস্থিত ছিলেন তিনটি প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তারা। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য সাফল্যের সঙ্গে এই অভিযান সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সকলেই চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু তাঁদের সাফল্য নতুন আশা দেখিয়েছে। উচ্চতায় ও প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল অভিযাত্রীদের। তাঁদের এই জয় ভারতের পর্বতারোহণে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে বলে মনে করছেন এইচএমআইয়ের প্রিন্সিপাল কর্নেল রাজনেশ যোশি। তাঁর বক্তব্য, ‘এই সাফল্য অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের প্রতি নবাগত অভিযাত্রীদের আরও বেশি আগ্রহ বাড়াবে। ভবিষ্যতে আরও অনেক দুর্গম পর্বতশৃঙ্গ জয় করবেন এইচএমআইয়ের সদস্যরা।’
এইচএমআইয়ের অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের পাশাপাশি দলটিতে ছিলেন জেআইএমডব্লিউএস-এর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট রফিক আহমদ মালিক, হাবিব সাজাদ হুসেন, এনকে ভরত সিং, যোগেশ এবং এনআইএম-এর সাব-মেজর হাজারি লাল, ভূপিন্দর সিং।

