সামসী: শনিবার রাজ্য মাদ্রাসা বোর্ডের হাই মাদ্রাসার ফল প্রকাশিত হয়েছে (High Madrasah Result 2025)। মেধা তালিকায় রাজ্যে যুগ্মভাবে সপ্তম হয়েছে রতুয়া-১ ব্লকের (Ratua) ভগবানপুর হাই মাদ্রাসার ছাত্রী আফিফা আফরিন সিদ্দিকা এবং বটতলা আদর্শ হাই মাদ্রাসার ছাত্রী নুরজাহান খাতুন। দুজনেরই প্রাপ্ত নম্বর ৭৬৮। যুগ্মভাবে সপ্তম স্থানাধিকারী দুজনেই ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায়।
আফিফা আফরিন বাংলায় ৮৫, ইংরেজিতে ৯২, অঙ্কে ৯৭, ভৌত বিজ্ঞানে ১০০, জীবন বিজ্ঞানে ৯৮, ইতিহাসে ৯৯, ভূগোলে ৯৭, ইসলাম পরিচয়ে ১০০ নম্বর পেয়েছে। তার বাবা পেশায় ভগবানপুর হাই মাদ্রাসার অঙ্কের পার্শ্বশিক্ষক এবং মা আয়েশা সিদ্দিকা সামসী আদর্শ মিশনের ইতিহাস বিষয়ের শিক্ষিকা। আফিফার দাদা রিজয়ানুল করিম বর্তমানে বারাসাত মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়ছে। দাদার মতো আফিফাও ডাক্তারি পড়তে চায়। আফিফার এই ফলাফলে পরিবারের পাশাপাশি খুশি গোটা এলাকাবাসী।
অন্যদিকে, আরেক সপ্তম স্থানাধিকারী নুরজাহান খাতুন বাংলায় ৯৮, ইংরেজিতে ৯৬, অঙ্কে ৯৭, ভৌত বিজ্ঞানে ৯৭, জীবন বিজ্ঞানে ৯৬, ইতিহাসে ৯১, ভূগোলে ৯৩, ইসলাম পরিচয়ে ৯৯ নম্বর পেয়েছে। বটতলা আদর্শ হাই মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষা দিলেও সে ভাদো মুসলিম গার্লস মিশন নামে এক বেসরকারি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করত। সপ্তম শ্রেণি থেকেই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে সে। বর্তমানে মালদার যদুপুরের একটি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান নিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে নুরজাহান।
নুরজাহানের বাবা হায়াত আলি পেশায় ফেরিওয়ালা। দার্জিলিং জেলায় প্লাস্টিকের রকমারি জিনিস বিক্রি করেন তিনি। সংসারের হাল ধরতে বছরের বেশিরভাগ সময়ই ফেরিওয়ালার কাজে বাড়ির বাইরেই থাকতে হয় তাঁকে। নুরজাহান জানায়, সে পরবর্তীতে ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু অর্থাভাবে তা সম্ভব হবে কিনা সেটাই দেখার। তবুও দমতে নারাজ সে।
ভাদো মুসলিম গার্লস মিশনের কর্ণধার জহরুল আলম বলেন, ‘নুরজাহান খাতুন লেখাপড়ায় খুব ভালো। আমাদের মিশনের নাম উজ্জ্বল করেছে সে। মিশনের তরফ থেকে তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’

