উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের (UP Election) আগে ভোটার তালিকা (UP Voter List) নিয়ে বড়সড়ো চমক দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। শুক্রবার সে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) নবদীপ রিনওয়া সাংবাদিক বৈঠকে উত্তরপ্রদেশের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেন। দেখা গিয়েছে, গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত খসড়া তালিকা থেকে চূড়ান্ত তালিকায় ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮৪ লক্ষ। রাজ্যে বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৩৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৭৯২।
চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশের যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে নাম ছিল ১২ কোটি ৫৫ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৫ জনের। শুক্রবারের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, তিন মাস সময়ের ব্যবধানে রাজ্যে ভোটার বেড়েছে ৮৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৭৬৭ জন। সিইও নবদীপ রিনওয়া জানিয়েছেন, এই তালিকায় পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৩০ লক্ষ ৭১ হাজার ৬১ এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৯ লক্ষ ৯ হাজার ৫২৫। উল্লেখ্য, এই প্রক্রিয়ায় লিঙ্গানুপাতেও উন্নতি ঘটেছে। আগে যেখানে প্রতি ১০০০ পুরুষে ৮২৪ জন মহিলা ভোটার ছিলেন, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৩৪।


খসড়া তালিকার তুলনায় ভোটার সংখ্যা বাড়লেও, সামগ্রিকভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগের তুলনায় উত্তরপ্রদেশে মোট ভোটার কমেছে প্রায় ২ কোটি। এসআইআর শুরু হওয়ার আগে রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৪৪ লক্ষ ৩০ হাজার ৯২। চূড়ান্ত তালিকায় তা দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৩৯ লক্ষের ঘরে। কমিশনের দাবি, মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি ছাঁটাই এবং ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনার কারণেই এই পরিবর্তন।
কমিশন জানিয়েছে, প্রয়াগরাজ, লখনউ, বরেলী, গাজিয়াবাদ এবং জৌনপুর— এই জেলাগুলিতে সবচেয়ে বেশি ভোটার বেড়েছে। বিশেষ করে ১৮-১৯ বছর বয়সি নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য মিলেছে। লখনউয়ের লোক ভবন মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এই সাংবাদিক বৈঠকে সিইও স্পষ্ট করেন যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরভাবে আইনি পদ্ধতি মেনে চলা হয়েছে এবং কোনও অভিযোগ থাকলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলাশাসকের দপ্তরে আবেদন করা যাবে।
পশ্চিমবঙ্গের মতোই উত্তরপ্রদেশের এই ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখেই উত্তরপ্রদেশের এই ‘ডিজিটাল ও নিবিড়’ সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

