উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষের মেঘ কি তবে কাটতে চলেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ইরানের (US-Iran ceasefire Update) উপর দু’সপ্তাহ হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে ইজরায়েল। বুধবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও একটি বড় ‘কাঁটা’ জিইয়ে রেখেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই বিরতি কেবল ইরানের জন্য। লেবাননে ইজরায়েলি সামরিক অভিযান থামার কোনো প্রশ্নই নেই।
ইজরায়েলের অবস্থান ও শর্ত
ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইরান যাতে বিশ্বের জন্য পারমাণবিক বা সন্ত্রাসী হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যে ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করছে। তবে একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির পরিধির মধ্যে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ, হিজবুল্লা নিকেশে লেবাননের মাটিতে ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হানা অব্যাহত থাকবে।
পাকিস্তান বনাম ইজরায়েল: লেবানন নিয়ে দ্বৈরথ
এই যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের ঘোষণার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্সে লেখেন যে, লেবানন-সহ সর্বত্র এই যুদ্ধবিরতি অবিলম্বে কার্যকর হওয়া উচিত। এমনকি আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশকে আলোচনার আমন্ত্রণও জানান তিনি। কিন্তু নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বয়ান ইসলামাবাদের সেই দাবিকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছে। লেবানন নিয়ে এই বিপরীতমুখী অবস্থান যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে বড়সড়ো প্রশ্ন তুলে দিল।
হুঁশিয়ারি ইরানের, শঙ্কায় বিশ্ব
এদিকে, যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও ইরানের সুর অত্যন্ত চড়া। ইরানের নয়া সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই সাফ জানিয়েছেন, “হাত আমাদের ট্রিগারেই থাকবে।” আমেরিকা বা ইজরায়েল যদি দু’সপ্তাহের মধ্যে কোনো ‘ভুল’ পদক্ষেপ করে, তবে ইরান পাল্টা জবাব দিতে এক মুহূর্ত দেরি করবে না।

