উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: জল্পনা ও চরম অনিশ্চয়তার মাঝেই পাকিস্তানের মাটিতে মুখোমুখি হতে চলেছে যুযুধান দুই দেশ— আমেরিকা এবং ইরান (US-Iran Talks)। শুক্রবার পাকিস্তানের নূর খান বিমানঘাঁটির কাছে একটি মার্কিন বায়ুসেনার ট্রান্সপোর্ট বিমানকে দেখা যায়, যার টেইলে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ছিল ‘চার্লসটন’ (Charleston)। আর এই বিমানের দেখা পাওয়ার সঙ্গেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হাই-ভোল্টেজ শান্তি বৈঠকের জল্পনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে এই বহু প্রতীক্ষিত বৈঠক ঘিরে এখনও চরম ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।
এখনও পর্যন্ত কোনও দেশের তরফ থেকেই মধ্যস্থতাকারীদের পৌঁছনোর কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। উলটে, একটি অত্যন্ত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) ঠিকঠাক পালন না করার দায়ে একে অপরের দিকে আঙুল তুলেছে আমেরিকা ও ইরান।


- হরমুজ প্রণালী বিতর্ক: চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী পুনরায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই বিষয়ে ইরানের পদক্ষেপে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- লেবাননে ইজরায়েলি হামলা: অন্যদিকে, লেবাননে ইজরায়েলি হামলার জেরে ক্ষোভে ফুঁসছে তেহরান। তাদের কড়া দাবি, এই হামলাও সদ্য হওয়া চুক্তির পরিপন্থী এবং এটি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন।
কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে:
- ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ (Nuclear Enrichment) কর্মসূচি কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে।
- অতি-গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ কীভাবে পুনরায় নিশ্চিত করা যায়।
বৈঠকের স্থান নিয়ে পাকিস্তান সরকার প্রথম থেকেই চরম গোপনীয়তা বজায় রেখেছে। তবে রাজধানী ইসলামাবাদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ কিছু বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে।
- সেরেনা হোটেল খালি করার নির্দেশ: বিদেশ মন্ত্রকের ঠিক পাশেই অবস্থিত হাই-সিকিউরিটি জোন বা ‘রেড জোন’-এর বিলাসবহুল সেরেনা হোটেল থেকে বুধবারই সমস্ত অতিথিদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই হোটেলটিই সম্ভাব্য ভেন্যু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
- সাধারণ ছুটি ঘোষণা: নিরাপত্তার স্বার্থে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার— টানা দু’দিন রাজধানীতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
- সেনা টহল ও নিশ্চুপ রাজধানী: সেনা পোশাকে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীদের কড়া পাহারায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা শহর। রাস্তায় রাস্তায় ট্র্যাফিক ডাইভারশন এবং পুলিশের অসংখ্য চেকপয়েন্ট বসানো হয়েছে। এমনিতেই শান্ত শহর ইসলামাবাদ শুক্রবার যেন এক নিস্তব্ধ, নিশ্চিদ্র দুর্গে পরিণত হয়েছে।

