উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে ইরানের উপর নজিরবিহীন বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা চাপালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সোমবার এক ঘোষণায় তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বের যে সমস্ত দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের আমেরিকায় পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক (25% Import Tariff) দিতে হবে (US-Iran Tariff)। ট্রাম্পের এই ‘চরম’ সিদ্ধান্তের ফলে ভারত, চিন, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলো ব্যাপক চাপের মুখে পড়তে চলেছে।
ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এর কোনও ব্যতিক্রম হবে না। ট্রাম্পের কথায়, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যারা বাণিজ্য করবে, তাদের আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য করার জন্য ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এই আদেশ চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয়।’ তবে নির্দেশ কীভাবে কার্যকর করা হবে, কোন দেশগুলি প্রভাবিত হতে পারে বা মানবিক বা কৌশলগত বাণিজ্যের জন্য কোনও ছাড় দেওয়া হবে কি না, সে সম্পর্কে ট্রাম্প কোনও বিস্তারিত তথ্য দেননি।
ভারতের (India) জন্য এই পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগের। কারণ, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনায় দিল্লির উপর আগে থেকেই ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে আমেরিকা। এখন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বজায় রাখলে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্কের বোঝা ৫০ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে। এর ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় রপ্তানি বাণিজ্য বড়সড়ো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে প্রবল গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আর ইরানে চলা এই সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দমনপীড়নের প্রতিবাদে এবং তেহরানের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতেই এই পদক্ষেপ। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানে সাম্প্রতিক আন্দোলনে নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে অন্তত ৫০০-র বেশি সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী আটক হয়েছেন বলে খবর। ট্রাম্প প্রথম থেকেই এই বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তেহরানের উপর চাপ সৃষ্টি করতেই এবার এই আর্থিক প্রতিবন্ধকতার পথ বেছে নিল ওয়াশিংটন।
এদিকে, আমেরিকার এই কঠোর অবস্থানের মাঝেই সুর চড়িয়েছেন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি সরাসরি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর সামরিক হামলার পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, আমেরিকা এখনও কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হুমকির মধ্যেও আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। একদিকে যেমন ইরানের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ চরমে, অন্যদিকে মার্কিন এই বাণিজ্যিক কোপ বিশ্ব অর্থনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে। এখন দেখার, ভারতের মতো দেশগুলি নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় কী অবস্থান নেয়।

