উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ পাক-আফগান ও ইজরায়েল-হামাস সংঘর্ষ থামানোর পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর এখন ইউক্রেনের দিকে। সোমবার রাশিয়া, ইউক্রেন দু’পক্ষকেই যুদ্ধ বন্ধের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। রাশিয়ার বেঁধে দেওয়া শর্ত মেনেই যে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশ টানতে চাইছেন, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রাখেননি ট্রাম্প(Trump)। তিনি বলেন, ‘আমি যা বলছি তা হল ওদের এখনই যুদ্ধ থামানো উচিত, বাড়ি ফিরে যাওয়া উচিত, মানুষ হত্যা বন্ধ করা উচিত এবং এই ধ্বংসে ইতি টানা উচিত।’
তাহলে ইউক্রেনের অংশ ডনবাসের যেসব এলাকা রাশিয়ার দখলে রয়েছে, তার কী হবে? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটা যেমন আছে তেমনই মেনে নেওয়া হোক। এখনই এটা করা যেতে পারে। আমার মনে হয়, এখানকার ৭৮ শতাংশ জমি ইতিমধ্যে রাশিয়া দখল করে নিয়েছে। এখন যা অবস্থা রয়েছে তাকেই স্থিতাবস্থা বলে মনে নেওয়া হোক। ওরা পরে এ ব্যাপারে আলোচনা করতে পারে।’
ডনবাসের ওপর রাশিয়ার অধিকার মেনে নিলে তিনি ইউক্রেনে সেনা অভিযানে রাশ টানতে রাজি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অবশ্য শুরু থেকে পুতিনের দাবি খারিজ করে দিয়েছেন। ইউক্রেন সরকারের আশঙ্কা, ডনবাস রাশিয়ার দখলে চলে গেলে পুতিনের সেনাদের জন্য কিভে পৌঁছোনোর রাস্তা খুলে যাবে। ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে দাবি, গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে হওয়া বৈঠকে ডনবাসের দাবি ছাড়ার জন্য জেলেনস্কির ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধে হারতে চলেছে। পুতিন চাইলে আপনাদের ধ্বংস করে দিতে পারেন।’ জবাবে ইউক্রেনের মানচিত্র দেখিয়ে যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রাম্পকে(Trump) বোঝানোর চেষ্টা করেন জেলেনস্কি। বিরক্ত ট্রাম্প সেই মানচিত্র দেখতে রাজি হননি। তিনি জানান, পুতিন তাঁকে বলেছেন রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ষুদ্ধ করছে না, সেখানে তারা বিশেষ সেনা অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে সেখান থেকে তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের দেশগুলি। সোমবার ইউরোপীয় কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা ধাপে ধাপে কমাবে ইউরোপ। ২০২৮-এর পয়লা জানুয়ারির মধ্যে এইসব খনিজের আমদানি শূন্যে নামিয়ে আনা হবে।
Trump | ডনবাস ছাড়তে জেলেনস্কিকে আমেরিকার চাপ
শেষ আপডেট:
Categories
আন্তর্জাতিক
