উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অশান্তির মেঘ! ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপটি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আগামী সপ্তাহে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও।
ট্রাম্পের হুমকি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে “মার্কিন সামরিক শক্তি সবসময় একটি বিকল্প (Option)”। তাঁর যুক্তি, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে এবং আমেরিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া জরুরি। তবে মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসনের প্রাথমিক ইচ্ছা সামরিক শক্তি নয় বরং দ্বীপটি কিনে নেওয়া।
ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পালটা হুঁশিয়ারি
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় নেতারা:
• ন্যাটো (NATO) ত্যাগের হুমকি: ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে কোনো মার্কিন হামলা মানেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ন্যাটো জোটের অবসান।
• আঞ্চলিক অখণ্ডতা: ইউরোপীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।
• ভুল বোঝাবুঝি দূর করার আহ্বান: ড্যানিশ বিদেশ মন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, “আমেরিকার পক্ষ থেকে সম্ভবত কোনো ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করতে চাই।”
কেন গ্রিনল্যান্ডের ওপর নজর আমেরিকার?
গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অবস্থান। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেখানে খনিজ সম্পদ এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সুবিধা নিতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রিনল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী ভিভিয়ান মটজফেল্ড জানিয়েছেন, তাঁরা আমেরিকার এই “কঠোর বিবৃতি” নিয়ে সরাসরি কথা বলতে চান।

