উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা (ডেডলাইন) শেষ হওয়ার আগেই ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খাড়গ দ্বীপে (Kharg Island) ভয়াবহ হামলা চালাল আমেরিকা। মঙ্গলবার এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবং ইরানের এক নিউজ এজেন্সি।
মঙ্গলবার মার্কিন সময় রাত ৮টার (ভারতীয় সময় বুধবার ভোর ৫:৩০) মধ্যে ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আসার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরোনোর আগেই খাড়গ দ্বীপের একাধিক সামরিক লক্ষ্যে আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী।
- ক্ষয়ক্ষতি: গত মাসেও এই দ্বীপে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা, যেখানে নৌ-মাইন স্টোরেজ এবং মিসাইল বাঙ্কার ধ্বংস করা হয়েছিল। মঙ্গলবারের হামলায় ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- গুরুত্ব: এই দ্বীপটি ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এখান থেকেই রপ্তানি হয়। এখানে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত রাখার ক্ষমতা রয়েছে।
মার্কিন হামলার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)। তাদের সাফ বার্তা— “সংযমের দিন শেষ” (Restraint is over)। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা এবার আমেরিকা এবং তার সহযোগী দেশগুলোর জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাবে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস সরবরাহ “বছরের পর বছর” স্তব্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তেহরান।
গত রবিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তিনি এমনকি খাড়গ দ্বীপ দখল করার পরিকল্পনা করছেন বলেও জানান। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা ইরান প্রত্যাখ্যান করার পরই এই হামলার সিদ্ধান্ত নেয় পেন্টাগন।
খাড়গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। ইরান আগেই সতর্ক করেছে যে, তাদের ওপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর তেল সম্পদ “ছাইয়ে পরিণত করা হবে”। যুদ্ধের ষষ্ঠ সপ্তাহে এসে এই সংঘাত এখন পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার অপেক্ষায়।

