উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: অগ্নিগর্ভ পশ্চিম এশিয়া। ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত (Israel-Iran Conflict) এবার এক বৃহত্তর যুদ্ধের আকার নিতে চলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে মঙ্গলবার ভোরে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল হোয়াইট হাউস। নিরাপত্তাগত চরম ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে পশ্চিম এশিয়ার ১৪টি দেশ থেকে দ্রুত মার্কিন নাগরিকদের (US urges citizens) বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আমেরিকার বিদেশ দপ্তরের সহ-সচিব মোরা নামদার সামাজিক মাধ্যমে এই দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেছেন।
হোয়াইট হাউসের (White House) পক্ষ থেকে জারি করা এই বিশেষ নির্দেশিকায় বাহরিন, মিশর, ইরান, ইরাক, ইজরায়েল (ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক ও গাজা সহ), জর্ডন, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইয়েমেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন যে কোনও উপলব্ধ গণপরিবহণে চেপে এই দেশগুলি ত্যাগ করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রয়োজনে প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বলা হয়েছে।
গত শনিবার ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া সরাসরি সংঘাত এখন গোটা আরব দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। কাতার, কুয়েত এবং আমিরশাহিতে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালানো শুরু করেছে। অন্যদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাও পূর্ণ শক্তি নিয়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ময়দানে নেমেছে। জর্ডন ও সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাসগুলিতে সোমবার গভীর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় হামলা হওয়ার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। ইতিমধেই জর্ডন থেকে কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে ওয়াশিংটন।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই গণ-উচ্ছেদ কেবল নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং আমেরিকা হয়তো বড় কোনও সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কুয়েত ও সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসের ওপর সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইরানের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোই চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে পশ্চিম এশিয়া এক বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে যে কোনও সময় আরও বড় কোনও বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত সেই আশঙ্কাই বাড়িয়ে দিল।

