বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: কিছুদিনের মধ্যেই জমি থেকে আলু তোলা শুরু হয়ে যাবে। এরপরই প্রয়োজন হবে হিমঘরের। তাই এই নিয়ে তৎপর হয়েছে জেলা প্রশাসন। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই খুলে যাচ্ছে জেলার হিমঘরগুলি। এর আগে হিমঘরে দশ শতাংশ আলু সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু এবার জেলার সমস্ত হিমঘরে ৩০ শতাংশ স্থান সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে হিমঘরে আলু রাখা নিয়ে অশান্তি এড়াতে থাকছে বাড়তি পুলিশি নিরাপত্তা। সম্প্রতি জেলা শাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনার নেতৃত্বে হিমঘর মালিকদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে ওই তথ্য উঠে এসেছে।
জেলা শাসক জানিয়েছেন, এবার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিদের সুযোগ দিতেই জেলার হিমঘরগুলিকে বলা হয়েছে ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষণ করে রাখার জন্য। সেই মোতাবেক ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, ব্লক স্তর থেকে দ্রুত আলুচাষিদের জন্য নির্দিষ্ট বন্ডের ব্যবস্থা করা হবে।
সোমবারও এই নিয়ে জেলা শাসকের দপ্তরে কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিক, দুই মহকুমা শাসক, ব্লক প্রশাসন, হিমঘর কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়।
জেলার কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিক অনিলকুমার শর্মা বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে জেলার দশটি হিমঘর খুলে যাবে। যার বেশিরভাগই ইসলামপুর মহকুমায়। একটিমাত্র হিমঘর রায়গঞ্জ মহকুমায়। চাষিরা তাঁদের সুবিধা মতো কাছের হিমঘরে আলু রাখার সুযোগ পাবেন। একজন চাষি কমপক্ষে ৩৫ কুইন্টাল আলু মজুত রাখতে পারবেন। তার জন্য ব্লক স্তরে বৈঠক করা হয়েছে।’ পাশাপাশি, কৃষকবন্ধু সহ কৃষিক্ষেত্রের বিভিন্ন উপভোক্তারা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী বন্ড তোলার সুযোগ পাবেন। এ বিষয়ে আরেকবার বৈঠক হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
গতবার জেলায় (Uttar Dinajpur) ৭ লক্ষ ১৫ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছিল। এবার তার পরিমাণ আরও বাড়বে বলে দাবি কৃষি আধিকারিক সহ জেলা প্রশাসনের। কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, মূলত পোখরাজ, জ্যোতি ও এস-ওয়ান প্রজাতির আলু চাষ হয় জেলায়। প্রায় ২৮ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে এবার। তার মধ্যে ইসলামপুর ব্লকে সবথেকে বেশি আলু চাষ হয়। ওই ব্লকেই ৬ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। ফলে হিমঘরে ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষণের খবরে খুশি সকলে।

