করণদিঘি: পাকা রাস্তা নাকি ডোবা। বুঝে ওঠা দায়। পিচের চাদর উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্ত। এমন রাস্তার ঠিকানা করণদিঘি (Karandighi) ব্লকের লাহুতাড়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বালিচর মোড় থেকে চারদামালি যাওয়ার রাস্তা। দীর্ঘ এক কিমি রাস্তার এমন বেহাল দশা। পিচ উঠে বিশালাকার গর্তে জল জমে ডোবার আকার নিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হক জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবেই রাস্তার এই হাল।’


স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলি বলেন, ‘বাম আমলে রাস্তাটিতে মেরামত করা হয়েছিল। ভোট আসে ভোট যায় রাস্তা মেরামতের কোনও উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্তারা।’
উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur) জেলা পরিষদের সভাধিপতি পম্পা পালের জেলা পরিষদের এলাকার রাস্তার এমন হাল নিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপির মাইনরিটি মোর্চার জেলা সভাপতি অমিত সাহা বলেন, ‘নিজের নির্বাচনি এলাকার রাস্তা এমন হলে জেলার বাকি রাস্তার হাল কেমন তা সহজেই অনুমেয়। বেহাল রাস্তার জন্য ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ। সমস্যায় স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে মহিলা ও শিশুরা।’
তিতপুকুর হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সজিবুল আলির কথায়, ‘সরকার থেকে সাইকেল দেওয়া হলেও রাস্তা ডোবায় পরিণত হওয়ায় সাইকেল ঘরে তুলে রাখা হয়েছে। পায়ে হেঁটেই স্কুলে যেতে বাধ্য হচ্ছি।’
সুলতানপুরের বাসিন্দা আনোয়ার আলমের মতে, ‘রাস্তায় ডোবা। টোটো, অটো চলাচল বন্ধ। সুলতানপুর গ্রাম থেকে টুঙ্গিদিঘি ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের দূরত্ব ৩ কিমি। রাস্তা খারাপ থাকায় এলাকার মানুষ ৫ কিমি ঘুরে করণদিঘি হয়ে রায়গঞ্জ, ইসলামপুর যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বেহাল রাস্তার জন্য গ্রামে অ্যাম্বুল্যান্সও ঢোকে না।’ করণদিঘির বিধায়ক গৌতম পালের সাফাই, ‘রাস্তাটি সংস্কারের জন্য টেন্ডার হয়েছিল। লোকসভা ভোটের পরেই কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উপনির্বাচনের জন্য কাজ শুরু করা যায়নি। বর্ষা শেষ হলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।’

