অনির্বাণ চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ: মঙ্গলবার উচ্চমাধ্যমিকের (HS) হিসাবশাস্ত্র এবং পদার্থবিদ্যার পরীক্ষা ছিল। উত্তর দিনাজপুরের (Uttar Dinajpur) কালিয়াগঞ্জ পার্বতী সুন্দরী উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র অর্ঘ্যদীপ দাস এবং কাব্য চক্রবর্তী একই টোটোতে চেপে কালিয়াগঞ্জ কলেজের পাশে অবস্থিত চাঁদময়ী উচ্চবিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পথে তারা দেখে, ব্যারিকেড লাগিয়ে সুকান্ত মোড় থেকে কালিয়াগঞ্জ কলেজ যাওয়ার রাস্তায় পেভার্স ব্লক বসানোর কাজ চলছে। অর্ঘ্যদীপ বলে, ‘রাস্তা বন্ধ থাকায় টোটোচালক আমাদের গলির ভেতর দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যান। কিন্তু ওই গলিতেও বাইক আর টোটোর ভিড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। ঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারব কি না এটা ভেবে খুব টেনশন হচ্ছিল। যদিও শেষপর্যন্ত আমরা ঠিক সময়েই সেন্টারে পৌঁছে যাই।’ পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পরে রাস্তার কাজ বন্ধ রেখে ব্যারিকেড খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু পরীক্ষার দিন এভাবে রাস্তা আটকে পেভার্স ব্লক বসানোর কাজ করায় স্থানীয়দের মনে ক্ষোভ জন্মেছে।
এই বিষয়ে কালিয়াগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ কুণ্ডু বলেন, ‘আমি পরীক্ষার্থীদের বিড়ম্বনার কথা শুনেছি। আগামী পরীক্ষার দিনগুলোতে যাতে ছাত্রছাত্রীদের এইভাবে ভোগান্তি না পোহাতে হয়, সেই ব্যাপারে আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি সংস্থার সঙ্গে কথা বলব। ’
কালিয়াগঞ্জ পার্বতী সুন্দরী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নন্দন সাহা বলেন, ‘উচ্চমাধ্যমিক জীবনের এত বড় একটা পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে পরীক্ষা শুরুর আগে এবং পরে কিছুটা সময় রাস্তার কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে যদি প্রশাসনের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে পরীক্ষার্থীরা চিন্তামুক্ত হতে পারে।’
রাস্তা বন্ধ থাকায় একের পর এক টোটো এবং বাইক পাশের গলিতে ঢুকে পড়ায় যানজট তৈরি হয়। হর্নের আওয়াজে বাসিন্দাদের কানে তালা লাগার জোগাড় হয়। স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ নায়েক বলেন, ‘গলিতে এত গাড়ি ঢুকে পড়ায় হর্নের আওয়াজে আমাদের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছিল। শেষে পুলিশ এসে যানজটের সমস্যা মেটায়। পরীক্ষার দিনে এভাবে রাস্তা আটকে কাজ করা উচিত নয়। প্রশাসনের উচিত এই বিষয়ে নজর রাখা।’
এই বিষয়ে কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি প্রণব সরকার বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে পুরসভার সঙ্গে কথা বলব। এবং দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য আবেদন করব।’
পরীক্ষার্থী কাব্য চক্রবর্তী বলে, ‘এদিন আমার ফিজিক্স পরীক্ষা ছিল। রাস্তা বন্ধ থাকায় হলে ঠিক সময় পৌঁছাতে পারব কি না এই টেনশনে সব পড়া ভুলে যাওয়ার জোগাড় হয়েছিল। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব যাতে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হয়।’

